logo
Advertisement

সাফারি পার্কে ফিরছে দুই হাতি ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মৌলভীবাজার
সাফারি পার্কে ফিরছে দুই হাতি ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’
জুড়ী এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত হাতি ‘সম্রাট’। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মৌলভীবাজারে অবৈধভাবে গাছ টানানো ও নানা নির্যাতনের শিকার আলোচিত দুই হাতি ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’কে আবারও বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে হাতি দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তাদের সাফারি পার্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে দেখভালকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হাতি দুটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে বন বিভাগ। গত রোববার (২৩ আগস্ট) এক কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে একটি হাতি এবং সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বন বিভাগের পাঁচ সদস্যের একটি দল সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়ে অপর হাতিটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ীর লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পাশে গাছ টানার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল ‘সম্রাট’কে। উদ্ধারকালে মাথা ও শুঁড়ে একাধিক ক্ষতচিহ্ন নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা হাতিটি প্রচণ্ড ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত ছিল। বন বিভাগের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে পর্যাপ্ত পানি ও কলাগাছ খেতে দেন। দুই বছর আগে উদ্ধার হওয়া সম্রাট ও নিহারকলিকে সম্প্রতি দেখভালকারীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের পুনরায় সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার মনির মিয়া ‘সম্রাট’কে এবং কমলগঞ্জ উপজেলার আবদুল মজিদ ‘নিহারকলি’কে লালন-পালন করতেন। সোমবার তাঁদের কাছ থেকে হাতি দুটি উদ্ধার করা হয়।

জুড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশনায় সোমবার দুপুরে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের কাছে গাছ টানার কাজ করার সময় ‘সম্রাট’কে উদ্ধার করা হয়। সে সময় হাতিটির মাথা ও শুঁড়ে ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। পরে তাকে রেঞ্জ কার্যালয়ে রাখা হয়। সাত-আট কিলোমিটার হেঁটে আসায় ক্লান্ত হাতিটি নলকূপের পানি পান করে এবং তাকে কলাগাছ কেটে খেতে দেওয়া হয়।

ক্ষতচিহ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহুত আবদুর রউফ দাবি করেন, জঙ্গলে ঢোকার সময় লেবুগাছের কাঁটা লেগে এ অবস্থা হয়েছে। তবে লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা মো. সাজন জানান, কাজ করার সময় কথা না শুনলে মাহুতরা লোহার ধারালো বস্তু দিয়ে হাতিকে আঘাত করেন। সম্রাটের শরীরেও সেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বন থেকে লালন-পালনকারীর উপস্থিতিতে ‘নিহারকলি’কে হেফাজতে নেয় বন বিভাগ। তাকেও সম্রাটের সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হচ্ছে।

সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবদুর রহমান বলেন, হাতি দুটি ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বন সংরক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা পেয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। সম্রাট ও নিহারকলিকে পুনরায় গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হচ্ছে।