শেরপুরে সংঘর্ষে যুবক নিহত, ইউপি সদস্যের বাড়িতে আগুন

শেরপুরের শ্রীবরদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ইসলাম (৩২) উপজেলার মাদারপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। আহত হয়েছেন মাহালম, শরিফ, শামিম, নজরুল, আজিরন, হাজেরাসহ অন্তত ১৫ জন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৬ মে) মাদারপুর এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী আহত হন। এ সময় আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বজনরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আশরাফুল তার স্ত্রীকে মারধর করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নূরুল আমিন সেখানে গেলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর ওই দিন রাতে নূরুল আমিন ও তার সমর্থকরা আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন এবং একটি ভ্যানগাড়িসহ বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে সোমবার সকালে আবারও আশরাফুল ও নূরুল আমিনের ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আশরাফুল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য নূরুল আমিন ও কালু মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত আশরাফুল ইসলামের ভাবি ফুল বানু বলেন, ‘মেম্বার (ইউপি সদস্য) ও তার তিন ছেলের অত্যাচারে আমরা ১৭ বছর ধরে ঢাকায় থাকি। বাড়িতে আসলেই আমাদের লাঠিসোঁটা নিয়ে দৌড়ানি দেয়, যা এই ইউনিয়নের প্রত্যেকটা মানুষ জানে। মেম্বারের ছেলেরা এর আগে আমাদের বাড়িতে এসে হামলা করে জিনিষপত্র লুটতরাজ করে নিয়ে গেছে। বাড়িতে আসার পর তারা চারজন আমার ছেলেকে কুপিয়েছে, আমাকে মারধর করেছে, আমার স্বামীকেও মারধর করেছে, আমার দেবরকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, আমার বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে মাথায় কোপ দিয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিচার চেয়ে এসেছি, কিন্তু মেম্বারের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না, যার কারণে বিচার পাই না।
ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য নূরুল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইতোমধ্যে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
.png)


