Advertisement

এসএসসিতে শতভাগ ফেল, ছুটির আগেই তালাবদ্ধ স্কুল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
এসএসসিতে শতভাগ ফেল, ছুটির আগেই তালাবদ্ধ স্কুল
ডি.এন. একতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ডিএন একতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া চার পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানের মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Advertisement

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে পাওয়া গেছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার নানা চিত্র। দেশের শতভাগ অকৃতকার্য ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম উঠেছে বিদ্যালয়টির।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মূল টিনশেড ভবন ও একাডেমিক ভবন— দুটিতেই তালা ঝুলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১টার মধ্যেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের একটি খোলা কক্ষে দেখা যায়, টেবিলের ওপর জীর্ণ ও ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনা। অনেক শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড ও আসবাবপত্রও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের টিনশেডের বেড়া থেকে শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন স্থান পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের লেখা নানা ধরনের অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর মন্তব্য এবং প্রেমের নিবেদন চোখে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করার কথা থাকলেও এখানে তা নিয়মিত মানা হয় না। অধিকাংশ দিন সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যেই পাঠদান শেষ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবারও আফরোজা আক্তার নামে এক সহকারী শিক্ষিকাকে বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশে যেতে দেখা যায়। পরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ধনঞ্জয় মণ্ডল এশিয়া পোস্টকে বলেন, সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদ হাসান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালে সাময়িকভাবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাঠদানের মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সাময়িক ব্যবস্থা এখন কার্যত নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান বা শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে ম্যানেজিং কমিটির ভয় দেখানো হয়। এতে অনেক অভিভাবক অভিযোগ জানাতেও সাহস পান না।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাঠদানের পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিষয় :