সারা দেশে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন প্রাথমিকে চাকরিবঞ্চিতরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও প্রথম দফায় নিয়োগপত্র পাননি অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেরিফিকেশনে আটকে যায় সহস্রাধিক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগপত্র। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, খুলনাসহ অন্তত সাত জেলায় নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও দু-এক দিনের মধ্যে নিয়োগবঞ্চিতদের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর বিভাগের একজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে জানান, রোববার সকালে বিভাগীয় উপপরিচালক বিভাগের আট শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে বৈঠক করেছেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দফায় নিয়োগ দেওয়ার পর যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করছি আমরা।’ তবে দ্বিতীয় দফায় যাচাইয়ের মানদণ্ড কি, সে বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় নিয়োগপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাকে যেহেতু এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেহেতু সারা দেশেই একই নির্দেশনা গেছে।’
এ ব্যাপারে জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে এশিয়া পোস্ট। তবে ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহবাগে রোববার আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলেছে এশিয়া পোস্ট। তাদের দাবি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র পাননি এমন সবাইকে নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্তদের গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র দেয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ নিয়ে নানা অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে।
কোথাও দেখা যায়, উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় প্রথম হলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ফৌজদারি কোনো মামলা না থাকলেও বাদ পড়েছেন অনেকে। তবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ঠিক কতজন নিয়োগপত্র পাননি তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হলে শনিবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫–এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
