Advertisement

প্রাথমিকে প্যারেন্ট সার্কেল ও বন্ধু রেজিস্ট্রার কার্যক্রম শুরু করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
প্রাথমিকে প্যারেন্ট সার্কেল ও বন্ধু রেজিস্ট্রার কার্যক্রম শুরু করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ইন প্রাইমারি এডুকেশনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় কথা বলছেন ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকার প্যারেন্ট সার্কেল ও বন্ধু রেজিস্ট্রার কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ইন প্রাইমারি এডুকেশনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু বিদ্যালয় ও শিক্ষকের দায়িত্ব নয়, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত শক্ত করতে পরিবার, বিদ্যালয় এবং কমিউনিটির সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। এ কারণে অভিভাবকদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে প্যারেন্ট সার্কেল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকরা শিশুদের পড়াশোনা, উপস্থিতি, আচরণ, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক বিকাশের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

বিদ্যালয়কে কমিউনিটির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে সরকার বন্ধু রেজিস্ট্রার কার্যক্রমও শুরু করেছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যারা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী, তাদের একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে। এর ফলে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি সহযোগিতামূলক সামাজিক পরিবেশ তৈরি হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি শিশুর ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু ভালো শিক্ষকই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সহযোগিতাপূর্ণ পরিবার, সচেতন কমিউনিটি এবং দায়িত্বশীল বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা। আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় এই তিনটি স্তরের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে চাই।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শুধু পাঠদানের স্থান হিসেবে না দেখে শিশু, অভিভাবক ও কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণের একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু চার দেয়ালের একটি প্রতিষ্ঠান নয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কেন্দ্র। সেই ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে অভিভাবক ও সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল মানুষকে যুক্ত করতে চাই।

সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মতবিনিময়ে প্রাথমিক শিক্ষায় কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো, অভিভাবকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক সহযোগিতা জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী এনজিও প্রতিনিধিরা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।