পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন জিপিএ-৫

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০২৬ সালে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই সঙ্গে এবার পরীক্ষায় গড় পাসের হারও কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
পাঁচ বছরে জিপিএ-৫ এর চিত্র
প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। পরের বছর এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জনে।
২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। ২০২৫ সালে তা আরও কমে হয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। আর চলতি বছর এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে।
অর্থাৎ ২০২৫ সালের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
২০২২ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন এবং ২০২৬ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জর।
এই হিসাবে ২০২৬ সালে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাসের হারও কমেছে
জিপিএ-৫ কমার পাশাপাশি এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হারও কমেছে। ২০২৬ সালে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এবার দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফলফল অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী।
এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫, ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।
সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়।
.png)


