এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এবার এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানেই মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।
চলতি নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করলে তাকে এক বছর পর (পরের বছরের পরীক্ষায়) আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু ফেল করা বিষয়গুলোয় অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রস্তুতির সময় দিয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের শিগগিরই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রস্তুতির সময় এক মাসের বেশি দেওয়া হবে না।
একই সময় এইচএসসিতে পাস করাদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের সবাই ভর্তি হতে পারবেন। এবছর উচ্চশিক্ষায় মোট ১৩ লাখের বেশি আসন আছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭, যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২, বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০, কুমিল্লা ৪৮ দশমিক ০৪, ময়মনসিংহ ৫১ দশমিক ৪৪, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে পাস করেছেন ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন।




