বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশে অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয় আখেরি চাহার সোম্বা। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার (১২ আগস্ট) দেশে সরকারিভাবে ‘সাধারণ ছুটি’ নেই। তবে ঐচ্ছিক ছুটি থাকায় দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকায় দেখা গেছে, আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে এক দিন ছুটি পালিত হবে। সে অনুযায়ী সারা দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে বুধবার ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এ-সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীন সব কলেজ বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, আখেরি চাহার সোম্বা মূলত আরবি ও ফারসি বাক্য। যার অর্থ হলো শেষ। ‘চাহার’ শব্দের অর্থ হলো সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো বুধবার। অর্থাৎ আখেরি চাহার সোম্বা মানে ‘সফর মাসের শেষ বুধবার’। দিনটিকে মুসলমানরা খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে থাকেন।
শরিয়তে এমন কোনো দিবসের অনুমোদন আছে কি
ইরান, ইরাক, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আখেরি চাহার সোম্বা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। এর ভিত্তি হলো, মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে বুধবার রাসুল (সা.)-এর দেহের উত্তাপ ও মাথাব্যথা খুব বৃদ্ধি পায়। তাতে তিনি বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়তে থাকেন। অতঃপর তার মাথার ওপর পানি ঢালা হলে তিনি একটু হালকা বোধ করলে মসজিদে গিয়ে জোহরের সালাত আদায় করেন এবং মুসল্লিদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। (বুখারি হা/৪৪৪২; ইবনু হিশাম ২/৬৪৯)।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিবসটি ঘটা করে পালন করা হয় এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে সাহাবায়ে কিরামের যুগে এরূপ প্রথার কোনো অস্তিত্ব ছিল বলে জানা যায় না।
এ ছাড়া এদিন গোসল করে দুই রাকাত শোকরানা নফল নামাজ আদায় করা এবং নামাজ শেষে রোগ থেকে মুক্তির দোয়া করা ও দান-খয়রাত করা, বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, দরবার, খানকায় ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতের বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানান আলেমরা।
.png)


