logo

তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা

তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা
অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার। ছবি: তিশার ফেসবুক থেকে নেওয়া

অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে মামলাটি করা হয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) ‍মানহানির অভিযোগ এনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামালউদ্দীনের ২৩নং আদালতে ৫০০/৫০১ ধারায় মামলাটি করেন সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। সি.আর মামলা নং ১৩৭১। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) পাঠানো হয়েছে।

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট শুভ্র সিনহা রায়।

মামলাটি বাদীর জবানবন্দি শুনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ২১ জানুয়ারি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েয়েছেন বিচারক।

নথিপত্রের তথ্যানুযায়ী, বাদী ঢাকার সিএমএম আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। বাদী মামলা গুলো দায়ের করার পরে আসামি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিগত ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘Tanjin Tisha’ নামক পেইজ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়াতে থাকেন। এ ছাড়া আসামি বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য দেশের গণমাধ্যমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে থাকেন।

আরজিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর আসামি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে বাদীর ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে ভাইরালের হুমকি দেন। যা বাদীর কাছে সংরক্ষিত আছে। সেখানে আসামি বাদীকে হুমকি বলেন, ‘ফেমাস হইলে বইল, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দেবো নে।’

আসামি তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২৭ অক্টোবর তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘Tanjin Tisha’ নামক পেইজ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়ান এবং বাদীর ছবি ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে সম্মান হানির ঘটনায় লিপ্ত থাকেন। সেখানে আসামি বাদী একটি নারীকে চুম্বন করছেন তার ছবি বাদীকে না জানিয়ে তার অজান্তে প্রকাশ করেন। এছাড়া সেখানে দুইজন নাবালক শিশুর ছবিও আসামি প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া বাদীর বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করেন। ‘সেখানে এ দুজন এক কেন? এ দুই বোনের মিলিত হয়ে এত ঘৃণা কেন? একজনকে তো মামলার আগে দেখিনি। এমন তথ্য প্রকাশ করেন।’

আরজিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনার বিষয়ে বাদী তার পল্লবীস্থ বাসায় বসে বিগত ২৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইলের ফেইসবুক ব্যবহারের সময় জানতে পান। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পারেন। অতঃপর বাদী আসামিকে তার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে বিগত ২৮ অক্টোবর তারিখে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির দুইদিনের মধ্যে যেন তা অপসারণ করা হয় এবং বাদী তার অনুরোধ করেন। কিন্তু লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর দুইদিনের মধ্যেও আসামি তা অপসারণ করেনি এবং অন্যদিকে সাক্ষীদের কাছে বাদীর বিষয়ে আসামি বিভিন্ন অদ্ভুত কথা বলে বেড়ান।

আসামি সাক্ষীদের কাছে বলেন, ‘আসামির ফেইম ব্যবহার করে ভাইরাল হওয়ার নেশায় বাদী মামলা করেছেন বলে কটূক্তি করেন’। বরংচ বাদী একজন জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার প্রাপ্তা। আসামি নিজেকে জনপ্রিয় দাবি করে, বাদীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সর্বত্র দিয়ে যাচ্ছেন। আসামির মানসম্মানের ক্ষতি করছেন।

আরজিতে আরও বলা হয়, আসামি বাদী ও অন্য কারও ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতি গ্রহণ করেননি এবং বাদী আসামিকে আইনগতভাবে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরেও তিনি উক্ত ছবি সরান নাই এবং কটূক্তি, মানহানি ও আরও ছবি প্রকাশের হুমকি প্রদান করেছেন। তাই বাদী বাধ্য হয়ে আসামির বিরুদ্ধে অত্র মামলা দায়ের করলেন।

এ বিষয়ে বাদী সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আবেদন করা হয়েছিল।’