‘লাও সুনা সুনা’তে মজেছে বাংলাদেশ, নেপালি এই সুরের পেছনের গল্প জানেন কী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দারুণ সাড়া ফেলেছে নেপালি গান ‘লাও সুনা সুনা’। ফেসবুক পোস্ট, রিলস কিংবা টিকটকে ঘুরে ফিরছে গানটির সুর। পাহাড়ি আবহ, আবেগঘন কণ্ঠ ও লোকসংগীতের মেলবন্ধনে তৈরি এই গানটি বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে এক নতুন শ্রুতিমধুর অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। রাতারাতি নতুন করে আলোচনায় এলেও, এই জনপ্রিয় সুরটির বয়স আসলে কয়েক বছর!
জানা গেছে, ‘লাও সুনা সুনা’ গানটি মূলত ২০২১ সালে নির্মিত ‘দ্য সাইলেন্ট একো’ নামক একটি বহুল প্রশংসিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের। ভারতীয় চিত্রনির্মাতা সুমন সেন পরিচালিত ১৫ মিনিটের এই ছবিটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ফ্রান্সের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়। সম্পূর্ণ নেপালি ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রটির গল্প গড়ে উঠেছে নেপালের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল ‘মুস্তাং’-এর মনোরম পটভূমিতে।
চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রে রয়েছে চার কিশোরের এক স্বপ্ন ও বন্ধুত্বের গল্প। পাহাড়ি গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাসকে তারা নিজেদের সংগীতচর্চার গোপন আখড়ায় পরিণত করে। পাশের শহরে আয়োজিত একটি ব্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অধীর আগ্রহ আর পাহাড়ি জীবনের সংগ্রামই সিনেমাটিতে ফুটে উঠেছে।
জানা গেছে, নির্বাচিত চার শিশুশিল্পীর কেউই পেশাদার অভিনয়শিল্পী নন। পোখারা অঞ্চলের আশপাশের শরণার্থীশিবির ও বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রায় ১০০ শিশুর অডিশনের মাধ্যমে বাছাই করা হয় তাদের।
গানটির পরিবেশনায় রয়েছেন সেরিং ধুন্দুপ গুরুং ও দীপালি প্রধান। অ্যাপল মিউজিক ও স্পটিফাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আইসফল প্রোডাকশনস’-এর ব্যানারে গানটি অফিশিয়াল ফোক মিউজিক হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে ছবিটি। ‘রেইনড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ বেস্ট শর্ট অব দ্য ফেস্টিভ্যাল এবং ‘কাওশিয়াং ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ এশিয়ান নিউ ওয়েভ অ্যাওয়ার্ড জেতে এটি। এ ছাড়া নিউইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন’স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিশ্বের নামকরা সব উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়।
সংগীত ও গল্পের এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাদেশও। ঢাকাভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘গুপি বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড’ ছবিটির কো-প্রডিউসার হিসেবে যুক্ত ছিল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘নাউনেস এশিয়া’তেও এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।
গুপি বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড জানিয়েছে, ২০২১ সালে নির্মিত সিনেমাটি ২০টির বেশি দেশে প্রদর্শিত হয়েছে, ৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে। ১৫টি পুরস্কার পেয়েছে।



