আফজাল হোসেন-আফসানা মিমিকে নিয়ে চরকিতে ‘রঙিন সুরমা’

বয়সের ভার, একাকিত্ব, না-পাওয়া আর জীবনের অনিবার্য বাস্তবতার মধ্যেও ভালোবাসার মানুষটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চরকি ফ্লিক ‘রঙিন সুরমা’। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি।
রিয়াজুল হক ইমরানের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটি আগামী ১২ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টায় (১৩ আগস্ট) চরকিতে মুক্তি পাবে।
‘রঙিন সুরমা’য় মুন্তাসির ও শাহিদা নামের দুই বয়স্ক মানুষের জীবন উঠে এসেছে। বয়স, সময়, সম্পর্ক, ভয় এবং কিছু অনিবার্য সত্য তাদের জীবনকে অনেকটাই ধূসর করে তুলেছে। তবে সেই ধূসরতার মধ্যেও তারা নিজেদের মতো করে কিছু রঙিন মুহূর্ত তৈরি করে নেয়।
নির্মাতার ভাষ্যে, সেই রঙিন মুহূর্ত তৈরির পেছনে রয়েছে কিছু সত্য গোপন রাখার গল্পও। কারণ, সব সত্য সবসময় মানুষকে বাঁচায় না। কখনও কখনও একটি মিথ্যাই মানুষকে প্রিয়জনের পাশে থাকার সুযোগ করে দেয় কিংবা কোনো সম্পর্ককে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
এ কারণেই ‘রঙিন সুরমা’ নামটির মধ্যেও রয়েছে একটি বৈপরীত্য। নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরান বলেন, সত্য তার কাছে ধূসর ও স্থির, বিপরীতে মিথ্যার রয়েছে অনেক রং। সেই রং বদলাতে বদলাতেই মানুষের জীবনের গল্প এগিয়ে যায়।
গল্প শুনেই সিনেমাটিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি। আফসানা মিমি জানান, নির্মাতা স্ক্রিপ্ট পাঠানোর পর প্রথমেই ‘রঙিন সুরমা’ নামটি তার দৃষ্টি কেড়েছিল। স্ক্রিপ্ট পড়া শেষ করেছিলেন চোখে জল নিয়ে।
আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে আফসানা মিমি বলেন, তার সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই আনন্দের। পর্দায় যাকে দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে প্রতিবারই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়। আফজাল হোসেনের সহজ-স্বাভাবিক অভিনয় পরিবেশকেও স্বচ্ছন্দ করে তোলে বলে জানান তিনি।
নির্মাতা ইমরানের কাজের ধরন নিয়েও কথা বলেছেন আফসানা মিমি। তার ভাষ্য, ইমরান প্রতিটি বিষয় নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগী ও খুঁতখুঁতে। চরিত্রের যাত্রা ও শুটিং নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধও হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
অন্যদিকে, পান্ডুলিপি পড়েই কাজটি করার ব্যাপারে আগ্রহী হন আফজাল হোসেন। তার মতে, দুজন বয়স্ক মানুষ ও একটি সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি এই গল্পটি বর্তমান সময়ের প্রচলিত গরমাগরম গল্পের বাইরে গিয়ে দর্শককে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি দেবে।
আফজাল হোসেন বলেন, ‘রঙিন সুরমা’র আবেগ দর্শকের আবেগকেও স্পর্শ করবে বলে তিনি আশাবাদী।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, বরেণ্য অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে দেশে তুলনামূলকভাবে কম কাজ হয়। ‘রঙিন সুরমা’র মাধ্যমে সেই জায়গায় কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছে চরকি। তার মতে, এটি এমন একটি আবেগঘন গল্প, যার সঙ্গে বিভিন্ন বয়সের দর্শক নিজেদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সম্পর্ক খুঁজে পাবেন।
নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরানের মতে, ‘রঙিন সুরমা’ কোনো নির্দিষ্ট বয়সের দর্শকের জন্য তৈরি নয়। বয়সভেদে গল্পটি দর্শকের কাছে ভিন্ন অর্থ তৈরি করতে পারে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দুজন মানুষ কীভাবে অসুস্থতা, বয়সের সীমাবদ্ধতা, একাকিত্ব ও দীর্ঘদিনের ক্লান্তির মধ্যেও একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেয়, মুন্তাসির ও শাহিদার গল্পে সেই প্রশ্নই তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতা।
.png)

