অপুষ্টির শিকার মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত দুধ পান করান না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাম থেকে নিউমোনিয়ায় যাওয়ার অন্যতম কারণ পুষ্টির অভাব এবং মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত বুকের দুধ পান করান না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের শরীরে পুষ্টির ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এসব মা শিশুদের পর্যাপ্ত ব্রেস্ট ফিডিং করান না। বাচ্চাদের যদি মায়েরা নিয়মিত বুকের দুধ পান না করান, তাহলে বাচ্চা তো অপুষ্টিতে থাকবেই।’
রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চারা ৯ মাস পর্যন্ত মায়ের কাছ থেকেই ইমিউনিটি নিয়ে থাকে। কিন্তু সেই মায়েদের শরীরে কোনো পুষ্টি নেই। এই পুষ্টির অভাবে অধিকাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলেই শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে।’
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হামে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার চার দিন আগ থেকেই অন্যের শরীরে হাম ভাইরাস ছড়াতে থাকে। একজন হামের রোগী সর্বোচ্চ ১৮ জনকে হাম ছড়াতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে শিশুদের অন্য বাচ্চাদের থেকে একটু নিরাপদে রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোয়ও নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন হামে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকে।’
হামে এ পর্যন্ত ৪৫০ শিশুর মৃত্যুর কারণে মন্ত্রী হিসেবে নিজের অবহেলা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার অবহেলা আছে কি না জানি না। নির্দিষ্ট করে বললে অবেহলা থাকলে সংশোধন করে নেব। হামের প্রথম রোগী পাওয়ার পর ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আইসিইউ চালু করেছি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর আরও ১০টি হাসপাতালে আগামী মঙ্গলবার আইসিইউ চালু হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিলনা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।’
তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগ পর্যন্ত মিজেলসের কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের একটা টিকাও আমাদের হাতে ছিল না।’
এ সময় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) বরাত দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না, বরং অব্যবস্থাপনার কারণে টিকাদানে ধীরগতি ছিল জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সত্য বলেছি, নাকি ইপিআই? দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি কোনো টিকা পাইনি।’
অনুষ্ঠানে ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ অনেকে।
