logo

সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টা আপনার মস্তিষ্ককে রাখবে তীক্ষ্ণ

সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টা আপনার মস্তিষ্ককে রাখবে তীক্ষ্ণ

আজকাল মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে অনেকেই অ্যাপ, সাবস্ক্রিপশন বা জটিল রুটিনে সময় দিচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ রাখতে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর একটি উপায় আছে। এই উপায়টি কোনো খরচের নয় এবং খুব সহজেই জীবনে আনা যায়।

আমরা সবাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগ হারানো বা নতুন তথ্য মনে রাখা নিয়ে সমস্যায় পড়ি। এমনকি সাধারণ শব্দও মনে রাখতে সমস্যা হয়। অনেকেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্মরণশক্তি বাড়ানোর অ্যাপ ব্যবহার, খেলা, ধাঁধা বা সাপ্লিমেন্টের দিকে চলে যান। কিন্তু গবেষণা দেখাচ্ছে, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এর চেয়ে অনেক সহজ, এবং বিনামূল্যের একটি উপায় আছে।

কী উপায় মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখে?

গবেষণা বলছে, এটি হলো ছোট ছোট সাহায্যের কাজ করা। যেমন প্রতিবেশীর সন্তানের দেখাশোনা, বন্ধুকে সাহায্য করা, বৃদ্ধ আত্মীয়কে বাজার করা বা গৃহস্থালির কাজ করা। এই ধরনের সহায়তা আমাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে।

গবেষণার ফলাফল

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সা হুয়াং হান পরিচালিত গবেষণায় ৩১,০০০-এর বেশি আমেরিকানকে ২০ বছরের জন্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র ২-৪ ঘণ্টা এই ধরনের সাহায্যমূলক কাজ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাস কমাতে সাহায্য করে।

গবেষণা দুই ধরনের সাহায্য পর্যবেক্ষণ করেছে:

ফর্মাল ভলান্টিয়ারিং – সংস্থা বা সংগঠনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী কাজ

ইনফরমাল সাহায্য – বন্ধু, প্রতিবেশী বা পরিবারের সদস্যকে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য

দুই ধরনের সাহায্যই মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। বিশেষ করে, ইনফরমাল সাহায্য প্রচলিত হলেও অনেক গবেষণায় এর গুরুত্ব দেখা যায়নি।

সাহায্য করা কেন মস্তিষ্ককে সাহায্য করে

সহায়তা করার সময় আমরা শুধু শারীরিক কাজ করি না। সমস্যার সমাধান করি, পরিকল্পনা করি, সামাজিক যোগাযোগ করি এবং প্রায়ই নতুন কিছু শিখি। এই সব কার্যকলাপ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং বয়সজনিত ক্ষয়কে ধীর করে।

এছাড়া, সাহায্য করার ফলে অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমায় এবং মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। এছাড়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, যা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কেমন কাজ করা উচিত

গবেষণা দেখায় যে, কোনো কাজ বড় বা জটিল হওয়া প্রয়োজন নেই। কিছু উদাহরণ—

শিশুর দেখাশোনা: নাতি-নাতনিদের বা বন্ধুদের শিশুর দেখাশোনা

বাজার বা জরুরি কাজ: প্রেসক্রিপশন, বাজার করা, ডাক্তারি যাত্রা

গৃহস্থালি সাহায্য: উঠান পরিষ্কার, মুভিং হেল্প, ছোট মেরামতি

মানসিক সহায়তা: একা মানুষকে সময় দেওয়া, বন্ধুদের কথা শোনা

শিক্ষা বা দক্ষতা শেয়ার করা: কারও হোমওয়ার্ক বা প্রযুক্তি শেখানো

খাবার তৈরি: অসুস্থ বা নতুন পিতামাতার জন্য রান্না

পরিবহন: বৃদ্ধদের ডাক্তারের কাছে বা বাজারে নিয়ে যাওয়া

কখন শুরু করবেন

যে কোনো বয়সেই শুরু করা যায়। গবেষণা ৫১ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ওপর হয়েছে, তবে মস্তিষ্কের জন্য এই কার্যক্রম যে কোনো বয়সেই উপকারী। লক্ষ্য হলো ধীরে ধীরে সপ্তাহে ২-৪ ঘণ্টা এই কাজ করা এবং নিয়মিত তা চালিয়ে যাওয়া।

অন্যান্য সুবিধা

  • একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা কমায়
  • জীবনে উদ্দেশ্য ও মানসিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে
  • মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে
  • হৃদরোগ ও প্রদাহ কমায়

মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখার জন্য জটিল নিয়ম বা ব্যয়বহুল প্রোগ্রাম প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট সাহায্যের কাজ, যা মানুষকে আনন্দ দেয়, সেই কাজই দীর্ঘমেয়াদে আপনার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা এমন কাজ করলেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, বয়সজনিত ক্ষয় কমে এবং মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। ছোট শুরু করুন, নিয়মিত করুন এবং ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত করুন।

ছোট সাহায্যের কাজ কেবল অন্যদের উপকার করে না, বরং আপনার মস্তিষ্ককেও শক্তিশালী করে। তাই আজই শুরু করুন।