Advertisement

গরমে বাড়ছে পেটের সমস্যা, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গরমে বাড়ছে পেটের সমস্যা, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পেটের নানা সমস্যাও। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম শুধু শরীরের স্বাভাবিক স্বস্তি নষ্ট করে না, এটি সরাসরি হজম প্রক্রিয়া ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গরমে শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে গেলে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, বমি, পাতলা পায়খানা এবং ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় খাবার ও পানিতে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে।

কেন গরমে হজমের সমস্যা বাড়ে

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখার জন্য ত্বকের দিকে বেশি রক্তপ্রবাহ পাঠায়। এতে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র গরমে হজমে সহায়ক এনজাইমের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। এর ফলে বদহজম, অ্যাসিডিটি এবং পেট ভারী লাগার সমস্যা বাড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, গরমে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার, রাস্তার খাবার, কাটা ফল এবং ফ্রিজে রাখা পুরোনো খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

কোন জীবাণুগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় ই-কোলাই, সালমোনেলা, স্ট্যাফাইলোকক্কাস এবং ক্লস্ট্রিডিয়া নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। এগুলো থেকে তীব্র খাদ্য বিষক্রিয়া বা গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় ফ্রিজে রাখা মাংস বা রান্না করা খাবার আবার গরম করে খেলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। কিছু ব্যাকটেরিয়ার টক্সিন পুনরায় গরম করার পরও থেকে যেতে পারে।

গরম ও পানিশূন্যতা কীভাবে পেটের ক্ষতি করে

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়। এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হজমের সমস্যাও বাড়ে।

পানিশূন্যতার কারণে দেখা দিতে পারে:

  • অ্যাসিডিটি
  • পেট ফাঁপা
  • পেটে মোচড় বা ব্যথা
  • দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বমি বা ডায়রিয়ার সময় শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকে অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

গরমে যেসব উপসর্গ বেশি দেখা যায়

চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় সাধারণত যেসব পেটের সমস্যা বেশি দেখা যায় সেগুলো হলো:

  • অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালা
  • পেট ফাঁপা
  • পাতলা পায়খানা
  • বমি বমি ভাব
  • বমি
  • পেট ব্যথা বা মোচড়
  • জ্বরসহ পেটের সংক্রমণ
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া

তবে কিছু লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন:

  • বারবার বমি
  • মলে রক্ত যাওয়া
  • তীব্র পানিশূন্যতা
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি

এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গরমে পেট ভালো রাখতে কী করবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই গরমের সময় পেটের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত দুই গ্লাস পানি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ওআরএস সঙ্গে রাখুন: গরমে অতিরিক্ত ঘাম বা পাতলা পায়খানার কারণে শরীর থেকে লবণ বের হয়ে যায়। তাই বাসায় ও ভ্রমণের সময় ওআরএস রাখা ভালো।

টাটকা খাবার খান: যতটা সম্ভব বাসায় তৈরি টাটকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঝুঁকিপূর্ণ খাবার এড়িয়ে চলুন

  • রাস্তার খোলা খাবার
  • কাটা ফল
  • বাসি খাবার
  • দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা দুধ বা মাংস

এসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

হালকা খাবার খান

গরমে অতিরিক্ত তেল, মসলা ও ভাজাপোড়া খাবার অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। তাই হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চিকিৎসকদের মতে, দই, ভাত, সবজি এবং ঘরে তৈরি সহজপাচ্য খাবার গরমে শরীরের জন্য ভালো।

কোন ফল বেশি উপকারী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরমুজ, বাঙ্গি ও শসার মতো পানিযুক্ত ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে।

তবে এসব ফল অবশ্যই পরিষ্কার ও টাটকা হতে হবে।

পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব

গরমের সময় খাবারের পরিচ্ছন্নতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ উষ্ণ তাপমাত্রায় জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-

  • খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে
  • নিরাপদ পানি পান করতে হবে
  • খাবার ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে
  • দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা খাবার না খাওয়াই ভালো

চিকিৎসকদের মতে, গরমের এই সময়ে সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের পেটের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। নিয়মিত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: এনডিটিভি