logo

কাশি নেই, তবুও ফুসফুস রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে শরীরের ৪ পরিবর্তন

কাশি নেই, তবুও ফুসফুস রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে শরীরের ৪ পরিবর্তন
ছবি: পালমোনারি প্রাক্টিস অ্যাসোসিয়েটস

ফুসফুসের সমস্যা মানেই আমরা মনে করি একটানা কাশি। কাশি একটু বেশিদিন থাকলেই আমাদের মাথায় চিন্তা আসে- ফুসফুসে কোনো সমস্যা হলো না তো? কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন একদম ভিন্ন কথা। ফুসফুসের রোগের প্রথম সংকেত কাশি নাও হতে পারে।

সিওপিডি, ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস বা অ্যাজমার মতো ফুসফুসের রোগগুলো কিন্তু শরীরে খুব নীরবেই বাসা বাঁধে। একদম শুরুর দিকে কাশির মতো কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তার পরিবর্তে দৈনিক কাজের শারীরিক শক্তির ক্ষেত্রে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আসে, যা আমরা বেশির ভাগ সময়ই অবহেলা করি। এরপর যখন কাশির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, ততক্ষণে ফুসফুসের কার্যক্ষমতার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

ভারতের বিখ্যাত বিএলকে-ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. সন্দীপ নায়ারের মতে, কাশি ছাড়াও ৪টি লক্ষণ প্রকাশ পেলে বুঝে নেবেন আপনার ফুসফুসের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। শরীর এই লক্ষণগুলোর মাধ্যমে মূলত আপনাকে সতর্ক করে দেয়। চলুন এই ৪ লক্ষণ জেনে নিই-

পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও ক্লান্তি আসে

সারা দিন পরিশ্রম করার পর ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। কিন্তু রাতের পর রাত পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া সত্ত্বেও যদি সারাদিন অনেক ক্লান্ত লাগে, তবে তা সাধারণ কোনো ক্লান্তি নাও হতে পারে।

আমাদের ফুসফুসের মূল কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেন রক্তে পৌঁছে দেওয়া এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গে সেই অক্সিজেন ছড়িয়ে দেওয়া। ফুসফুস যখন সঠিকভাবে অক্সিজেন প্রসেস করতে পারে না, তখন রক্তে অক্সিজেনের যোগান কমে যায়। ফলস্বরূপ, হার্ট ও ফুসফুসকে অনেক বেশি খাটতে হয়। শরীরের অন্যান্য টিস্যু পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এতে শরীরে অনেক বেশি ক্লান্তি চলে আসে, যা পর্যাপ্ত ঘুমেও দূর হয় না।

একটু পরিশ্রম করলেই হাঁপিয়ে ওঠেন

বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে অল্প একটু হাঁটা, সিঁড়ি বেয়ে দু-একতলা ওঠা, কিংবা রাস্তায় স্বাভাবিক গতিতে হাঁটার সময়ই হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে শ্বাস ছোট হয়ে আসে। এই পরিস্থিতিতে হয়তো আপনারা অনেকেই পড়েছেন।

ছবি: প্রিমিয়ার কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট
ছবি: প্রিমিয়ার কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট

এরকম হলে আমরা ভাবি, ওজন বেড়ে গেছে বা ফিটনেস ঠিক নেই, কিংবা বয়স বেড়ে গেছে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে একদম ভিন্ন কথা। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য শারীরিক পরিশ্রমে এ রকম হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হওয়া ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় এবং প্রাথমিক সংকেত।

বুকে অস্বস্তিকর চাপ

ফুসফুসের জটিলতার একদম শুরুতেই যে বুকে তীব্র ব্যথা হবে, এমন নয়। অনেক সময় হয়তো মনে হতে পারে বুকটা কেউ চেপে ধরেছে বা বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যাচ্ছে না। শ্বাস নিতে গেলেই মনে হয় ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছাচ্ছে না। যার ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে হালকা নিশ্বাস (Shallow breathing) নিতে শুরু করে। বুকে চাপ লাগার এই অনুভুতিটি ফুসফুসের সমস্যার অন্যতম একটি নীরব লক্ষণ।

ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

পায়ের গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া

পায়ের গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফোলার সাথে ফুসফুসের কী সম্পর্ক থাকরেত পারেন- এটা ভেবে অনেকেই অবাক হতে পারেন। কিন্তু এটি ফুসফুসের সমস্যার এটিও একটি লক্ষণ।

ফুসফুসে দীর্ঘমেয়াদী বা জটিল কোনো সমস্যা তৈরি হলে ফুসফুসের ধমনিগুলোতে রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের ডান পাশের প্রকোষ্ঠের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Cor Pulmonale বলা হয়। হৃৎপিণ্ড যখন ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন শরীরে ফ্লুইড বা তরল জমা হতে থাকে। যা ফুটে ওঠে পায়ের গোড়ালি বা পাতা ফুলে যাওয়ার মাধ্যমে।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে করণীয় কী?

কাশি শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা একদমই উচিৎ না। আপনি যদি খেয়াল করেন যে গত ২ বা ৩ সপ্তাহ ধরে সাধারণ কাজগুলো করতে গিয়ে আপনার কিছুটা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বা ক্লান্ত লাগছে, তবে দেরি না করে দ্রুত একজন পালমোনোলজিস্ট বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফুসফুসের অবস্থা মাপার জন্য চিকিৎসকরা ‘স্পাইরোমেট্রি’ বা পালমোনারি ফাংশন টেস্ট করে থাকেন। এটি একটি অত্যন্ত সহজ এবং ব্যথাহীন পরীক্ষা। ফুসফুসের স্থায়ী কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই এই পরীক্ষার মাধ্যমে শ্বাসনালীর অবস্থা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। সঠিক সময়ে ফুসফুসের যত্ন ও চিকিৎসা শুরু করলে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া