logo

গরমেও গোড়ালি ফাটছে, জেনে নিন কারণ

গরমেও গোড়ালি ফাটছে, জেনে নিন কারণ

পায়ের গোড়ালি ফাটা অনেকের জন্যই একটি সাধারণ সমস্যা। আর এ সমস্যায় অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ভোগেন। মূলত পায়ে গোড়ালির ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে এ সমস্যা দেখা দেয় এবং মোটা শক্ত চামড়া বা ক্যালাস তৈরি হয়ে পরে সেটিতে ফাটল ধেরে।

ত্বক বাইরে থেকে আমাদের শরীরকে সুরক্ষা দেয়। পায়ের গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ে, তাই সেখানে ত্বক নিজেকে রক্ষা করতে মোটা হয়ে যায়। এই মোটা স্তরকে ‘ক্যালাস’ বলা হয়। সমস্যা হলো, এই ক্যালাস তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে ত্বক ক্রমেই শক্ত ও শুষ্ক হতে থাকে। একসময় এতে ফাটল দেখা দেয়, যাকে আমরা পায়ের গোড়ালি ফাটা বলি। এই ফাটল কখনো কখনো ব্যথা বা রক্তপাতও ঘটাতে পারে।

কেন গোড়ালি ফাটে

বিভিন্ন কারণে পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। চলুন পায়ের গোড়ালি ফাটার কিছু সাধারণ কারণ জেনে নিই।

পরিবেশগত কারণ : শুষ্ক আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম আবহাওয়া আমাদের ত্বক শুকিয়ে দেয়। এতে পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া গরম পানিতে বেশি সময় গোসল, ক্ষতিকর সাবান ব্যবহার অথবা পা নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ না করাও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ হতে পারে।

ত্বকের সমস্যা : একজিমা, সোরিয়াসিস ও ফাঙ্গাল ইনফেকশরে সমস্যায় ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে সহজে পায়ের গোড়ালিতে ফাটল তৈরি হয়।

শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত কারণ : ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা, অপুষ্টি বা সুষম খাবারের অভাব, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটের ঘাটতি, ধূমপানের পাশাপাশি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে।

বয়সজনিত কারণ : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং সহজেই ফাটে।

এ ছাড়া পানি স্বল্পতার ফলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

লক্ষণ

  •  গোড়ালিতে মোটা ও শক্ত চামড়া
  •  ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া
  •  দৃশ্যমান ফাটল
  •  হাঁটার সময় ব্যথা
  •  গভীরভাবে ফাটলে রক্তপাত

খেয়াল রাখবেন, পায়ের গোড়ালিতে গভীর ফাটল হলে সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে।

যদি ফাটা জায়গা দিয়ে রক্ত বের হয়, তাহলে সেখানে জীবাণু ঢুকে সংক্রমণ হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সেলুলাইটিস নামের সংক্রমণও হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

ময়েশ্চারাইজিং করুন। দিনে অন্তত ২ বার পায়ে ক্রিম লাগান। বিশেষ করে গোসলের পর ও রাতে ঘুমানোর সময়। ইউরিয়া, গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুন, এতে পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা কমতে পারে।

পায়ের যত্ন নিন। সবসময় আরামদায়ক জুতা পরুন ও খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত ফুট ফাইল বা পিউমিস স্টোন দিয়ে পায়ের গোড়ালির মৃত চামড়া পরিষ্কার করুন। খুব ধারালো যন্ত্র দিয়ে চামড়া কাটবেন না, এতে আরও ক্ষতি হতে পারে।

ঘরোয়া উপায় পায়ের যত্ন নিন। কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর হালকা করে মৃত চামড়া তুলে ফেলুন। নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল লাগান লাগান পায়ে। চাইলে মধু ব্যবহার করতে পারেন, এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল।

কয়েক সপ্তাহেও সমস্যা না কমলে, ফাটল থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হলে বা তীব্র ব্যথা বা ফোলা থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখান। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ফাটা গোড়ালি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে এটি গুরুতর হতে পারে। তবে নিয়মিত যত্ন, ময়েশ্চারাইজিং এবং সঠিক জুতা ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই এটি প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিদিন সামান্য সময় পায়ের যত্নে নেলে এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।