logo

প্রস্টেট চেক করা কেন জরুরি, জানুন কারণ

প্রস্টেট চেক করা কেন জরুরি, জানুন কারণ
ছবি : সংগৃহীত

পুরুষদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকটাই অবহেলিত একটি অংশ হলো প্রস্টেট গ্রন্থি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ছোট্ট গ্রন্থিতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অথচ শুরুতেই সচেতন হলে বড় ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই নিয়মিত প্রস্টেট চেকআপ কেন জরুরি, তা জানা প্রয়োজন।

প্রস্টেট হলো পুরুষদের শরীরে থাকা একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির নিচে এবং পায়ুপথের সামনে থাকে। এটি বীর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি করে এবং পুরুষদের প্রজনন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়া, সংক্রমণ বা ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।


প্রস্টেট চেক করানো কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রস্টেট ক্যান্সার দ্রুত শনাক্ত করা যায়

পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলোর একটি হলো প্রস্টেট ক্যান্সার। সমস্যা হলো, এর প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে শরীরে রোগ বাসা বেঁধেছে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নিয়মিত পরীক্ষা করলে রোগটি শুরুর দিকেই ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসা সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।

প্রস্রাবজনিত সমস্যা কমানো যায়

প্রস্টেট বড় হয়ে গেলে অনেকেরই ঘন ঘন প্রস্রাব লাগে, প্রস্রাব আটকে আসে, জ্বালাপোড়া হয় বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এসব সমস্যাকে সাধারণ বয়সজনিত পরিবর্তন ভেবে অনেকে গুরুত্ব দেন না।

কিন্তু পরীক্ষা করালে দ্রুত কারণ জানা যায় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে আরাম পাওয়া সম্ভব হয়।

পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি

যদি পরিবারের কারও প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে থাকে, তাহলে অন্য সদস্যদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাবা বা ভাই আক্রান্ত হয়ে থাকলে নিয়মিত চেকআপ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকরা বলছেন, এমন ক্ষেত্রে ৪০-৪৫ বছর বয়স থেকেই পরীক্ষা শুরু করা ভালো।

বর্তমান পরীক্ষাগুলো সহজ

অনেকেই মনে করেন প্রস্টেট পরীক্ষা খুব জটিল বা কষ্টদায়ক। বাস্তবে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, যাকে PSA টেস্ট বলা হয়, দিয়েই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

প্রয়োজনে ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন (DRE), MRI বা বায়োপসির মতো পরীক্ষা করা হয়। এগুলোও বর্তমানে অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুল।

কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করবেন না?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

  • ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা
  • রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা
  • প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া
  • প্রস্রাবে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
  • কোমর বা তলপেটে ব্যথা

কখন প্রস্টেট চেক করাবেন?

  • ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত চেকআপ করা উচিত
  • পরিবারের কারও প্রস্টেট ক্যান্সার থাকলে ৪০-৪৫ বছর থেকেই পরীক্ষা শুরু করা ভালো
  • যেকোনো বয়সে প্রস্রাবজনিত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

প্রস্টেটের যত্নে কী করবেন?

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কম খান
  • শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খান
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন

নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়। বরং সচেতন থাকাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। কয়েক মিনিটের একটি চেকআপ ভবিষ্যতের বড় বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক