Advertisement

সপ্তাহে মাত্র ৭৫ মিনিটের এই অভ্যাসেই কমতে পারে পেটের মেদ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
সপ্তাহে মাত্র ৭৫ মিনিটের এই অভ্যাসেই কমতে পারে পেটের মেদ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সপ্তাহে মোট কতটা কার্যকর ব্যায়াম করা হচ্ছে।

পেটের মেদ কমাতে অনেকেই প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সময়ের অভাবে নিয়মিত ব্যায়াম করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন একটি গবেষণা আশার খবর দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মোট ৭৫ মিনিট দ্রুত গতিতে ইন্টারভ্যাল হাঁটলেও পেটের মেদ কমানো এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি হ্রাসে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে।

গবেষকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সপ্তাহে মোট কতটা কার্যকর ব্যায়াম করা হচ্ছে। সেই সময়টি একদিনে নাকি কয়েক দিনে ভাগ করে করা হচ্ছে, সেটি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি মানে নয় যে প্রতিদিন হাঁটার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত সক্রিয় জীবনযাপন এখনও সুস্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি।

গবেষণায় কী দেখা গেছে?

গবেষণাটি করা হয় পেটের অতিরিক্ত মেদ থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে। অংশগ্রহণকারীদের একদল সপ্তাহে মোট ৭৫ মিনিটের ইন্টারভ্যালভিত্তিক দ্রুত হাঁটা একদিনে সম্পন্ন করেন। অন্য দল একই ৭৫ মিনিট তিন দিনে ভাগ করে করেন।

চার মাস পর দেখা যায়, দুই দলই শরীরের মোট চর্বি ও কোমরের মাপ কমাতে সক্ষম হয়েছেন। সপ্তাহে একদিন ব্যায়াম করা দলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে, যদিও তিন দিনে ভাগ করে ব্যায়াম করা দলের ফল কিছুটা বেশি ছিল। তবুও পার্থক্য খুব বেশি ছিল না।

ইন্টারভ্যাল হাঁটা কী?

ইন্টারভ্যাল হাঁটা হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কিছু সময় দ্রুত গতিতে হাঁটার পর কিছু সময় ধীরে হাঁটা হয়। এরপর আবার দ্রুত হাঁটা শুরু করা হয়। উদাহরণ হিসেবে - ৩ থেকে ৪ মিনিট দ্রুত হাঁটা এবং এরপর ২ থেকে ৩ মিনিট ধীরে হাঁটা। এভাবে কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করা।

এই পদ্ধতিতে শরীরের ওপর তুলনামূলক বেশি কাজ হয় এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতাও উন্নত হতে পারে।

শুধু ৭৫ মিনিট হাঁটলেই কি পেটের মেদ চলে যাবে?

না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাঁটা নয়, খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক জীবনযাপনও ওজন ও পেটের মেদ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া শরীরের নির্দিষ্ট একটি অংশের মেদ আলাদা করে কমানো সম্ভব নয়। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকেই ধীরে ধীরে চর্বি কমে।

দ্রুত হাঁটার আরও উপকারিতা

নিয়মিত দ্রুত হাঁটার মাধ্যমে-

  • হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো থাকতে পারে
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে
  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
  • শারীরিক সক্ষমতা বাড়তে পারে
  • মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে

কারা সতর্ক থাকবেন?

যাদের হৃদ্‌রোগ, হাঁটুর গুরুতর সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে, তারা নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি আগে কখনও নিয়মিত ব্যায়াম না করে থাকেন, তাহলে প্রথমে ধীরে হাঁটা শুরু করুন। পরে ধীরে ধীরে গতি ও সময় বাড়ান।

সর্বোচ্চ উপকার পেতে কী করবেন?

  • সপ্তাহে অন্তত ৭৫ মিনিট দ্রুত গতির হাঁটার লক্ষ্য রাখুন।
  • সম্ভব হলে সময়টি কয়েক দিনে ভাগ করে হাঁটুন।
  • হাঁটার আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট ওয়ার্ম আপ করুন।
  • হাঁটার শেষে ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে কুল ডাউন করুন।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস বজায় রাখুন।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মোট ৭৫ মিনিট দ্রুত গতির ইন্টারভ্যাল হাঁটাও পেটের মেদ কমানো এবং শরীরের চর্বি হ্রাসে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন ব্যায়ামের সময় বের করা কঠিন, তাদের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য শুধু হাঁটার ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত সক্রিয় জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনডিটিভি