হার্ট অ্যাটাক কখন বেশি হয়, জানুন কোন সময় ঝুঁকিপূর্ণ

হার্ট অ্যাটাক নিয়ে সিনেমা বা নাটকে প্রায়ই দেখা যায় হঠাৎ করে বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা আকস্মিক অসুস্থতা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা নাটকীয় না-ও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাক যে কোনো সময় ঘটতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট সময় ও শারীরিক অবস্থায় এর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে
কার্ডিওলজিস্টদের মতে, পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সবসময় একরকম হয় না। সাধারণভাবে বুকে চাপ বা ব্যথা উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্ন উপসর্গ বেশি দেখা দিতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি বা উদ্বেগ, পেট খারাপ বা বমিভাব, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি। এসব লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে।
দিনের কোন সময়ে ঝুঁকি বেশি থাকে
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সকালে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পরের কয়েক ঘণ্টায়, সাধারণত সকাল ৬টা থেকে দুপুরের মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকে।
এই সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে রক্ত কিছুটা ঘন হয়ে যেতে পারে। যাদের আগে থেকেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
সকালে শরীরে কী পরিবর্তন ঘটে
ঘুমের সময় শরীর বিশ্রাম অবস্থায় থাকে, কিন্তু সকালে ঘুম ভাঙার পর শরীর আবার সক্রিয় অবস্থায় ফিরে আসে। এই পরিবর্তনের সময় কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এর ফলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তনালি কিছুটা সংকুচিত হতে পারে। শরীরের এই জৈবিক পরিবর্তনগুলো একসঙ্গে মিলে সকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়ায়।
স্ট্রেসের ভূমিকা
তীব্র মানসিক চাপ হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রিগার হতে পারে। স্ট্রেসের সময় শরীরে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, যা হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
যাদের আগে থেকেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই চাপ হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এর মধ্যে রয়েছে ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সকালে কী সতর্কতা নেওয়া উচিত
ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ ভারী ব্যায়াম বা বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ হৃৎস্পন্দন দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই সকালে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজ শুরু করা ভালো।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
হার্ট অ্যাটাক যে কোনো সময় ঘটতে পারে, তবে সকালে এর ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন পরিবর্তন ও জৈবিক ছন্দের কারণে। সচেতন জীবনধারা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সঠিক অভ্যাস এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে।



