Advertisement

ঘন ঘন পা ফুলছে, থাকতে পারে বড় রোগের ইঙ্গিত

এশিয়া পোস্ট নিউজ
ঘন ঘন পা ফুলছে, থাকতে পারে বড় রোগের ইঙ্গিত
পা ফুলে যাওয়া সব সময় বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়।

সারাদিন দাঁড়িয়ে বা হাঁটাহাঁটি করার পর অনেকেরই পা কিছুটা ফুলে যেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিলে এই ফোলা কমে যায়। তবে যদি বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে পা ফুলে থাকে, তাহলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পা ফুলে যাওয়ার পেছনে হৃদ্‌রোগ, কিডনির সমস্যা, লিভারের রোগ, শিরার সমস্যা বা থাইরয়েডের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে। তাই ফোলা যদি ঘন ঘন হয় বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কেন পা ফুলে যায়?

পা ফুলে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এডিমা বলা হয়। শরীরের টিস্যুতে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে এমনটি হয়। এটি এক পা বা দুই পায়েই হতে পারে।

যেসব কারণে পা ফুলতে পারে

দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা: অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ে তরল জমতে পারে। অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বা দীর্ঘ ভ্রমণের পর এমনটি দেখা যায়। সাধারণত বিশ্রাম নিলে এটি কমে যায়।

শিরার সমস্যা: পায়ের শিরাগুলো ঠিকভাবে রক্ত হৃদ্‌যন্ত্রে ফিরিয়ে নিতে না পারলে পায়ে ফোলা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি বলা হয়। এর সঙ্গে পায়ে ভারী লাগা, ব্যথা বা শিরা ফুলে যাওয়ার সমস্যাও থাকতে পারে।

হৃদ্‌রোগ: হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে গোড়ালি ও পা ফুলে যেতে পারে। যদি এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা বুকে অস্বস্তি থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

কিডনির সমস্যা: কিডনি শরীরের অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য বের করে দেয়। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে তরল জমে পা, গোড়ালি এমনকি মুখও ফুলে যেতে পারে।

লিভারের রোগ: লিভারের কিছু রোগে শরীরে প্রোটিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে পানি জমে ফোলা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেও কিছু মানুষের পা ফুলে যেতে পারে। এর সঙ্গে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি বা ঠান্ডা বেশি লাগার মতো উপসর্গও থাকতে পারে।

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন ও শরীরে তরল বাড়ার কারণে অনেক নারীর পা ফুলে যায়। তবে যদি হঠাৎ খুব বেশি ফোলা, মাথাব্যথা বা উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণের সঙ্গে পা ফুলে গেলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন-

  • হঠাৎ এক পা ফুলে যাওয়া
  • পায়ের সঙ্গে তীব্র ব্যথা বা লালচে ভাব
  • শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা
  • ফোলা কয়েক দিনেও না কমা
  • জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ
  • কিডনি, হৃদ্‌রোগ বা লিভারের রোগ আগে থেকেই থাকা

এসব ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

পা ফোলা কমাতে কী করবেন?

  • দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
  • মাঝেমধ্যে হাঁটাহাঁটি করুন।
  • বিশ্রামের সময় পা কিছুটা উঁচু করে রাখুন।
  • অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমান।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডাইইউরেটিক বা অন্য ওষুধ খাবেন না।

পা ফুলে যাওয়া সব সময় বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে যদি এটি বারবার হয়, দীর্ঘদিন থাকে বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে অনেক গুরুতর রোগের চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা সম্ভব। তাই বারবার পা ফুললে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: টিভি ৯