Advertisement

কতক্ষণ স্ক্রিনে থাকলে বাড়ে ঝুঁকি, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
কতক্ষণ স্ক্রিনে থাকলে বাড়ে ঝুঁকি, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সুস্থ থাকার জন্য প্রযুক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ছবি : সংগৃহীত

কাজ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, বিনোদন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, সবকিছুর জন্যই এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময় অনলাইনে কাটানো শরীর ও মনের জন্য কতটা ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট নিজে সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন অনলাইনে কাটানো সময় দৈনন্দিন জীবন, ঘুম, সম্পর্ক, কাজ বা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তাই শুধু কত ঘণ্টা অনলাইনে থাকছেন, সেটিই নয়, বরং কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত অনলাইনে থাকার কী কী প্রভাব পড়তে পারে?

ঘুমের সমস্যা

রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঘুমাতে দেরি হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উদ্বেগ ও মানসিক চাপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটালে অনেকেই অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে শুরু করেন। সব সময় নতুন তথ্য, নোটিফিকেশন বা খবরের মধ্যে থাকাও মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

মনোযোগ কমে যাওয়া

বারবার ফোন চেক করা, নোটিফিকেশন দেখা বা একসঙ্গে অনেক কাজ করার অভ্যাস মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে পড়াশোনা বা কাজের উৎপাদনশীলতাও কমে যেতে পারে।

শরীরচর্চা কমে যায়

দীর্ঘ সময় বসে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। এতে ওজন বৃদ্ধি, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, চোখে অস্বস্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বাস্তব সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে

যখন বেশির ভাগ সময় অনলাইনে কাটে, তখন পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। এতে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হতে পারে।


সব ধরনের অনলাইন ব্যবহার কি ক্ষতিকর?

একেবারেই নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ব্যবহারকে ভালো বা খারাপ হিসেবে ভাগ করা ঠিক নয়। যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নতুন কিছু শেখা, কাজ করা, চিকিৎসা নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তা উপকারী।

অন্যদিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করা বা এমন কনটেন্ট দেখা, যা মানসিক চাপ বাড়ায়, সেটিই বেশি সমস্যার কারণ হতে পারে।

বুঝবেন কীভাবে যে অনলাইন ব্যবহার বেশি হয়ে যাচ্ছে?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

  • ফোন বা ইন্টারনেট ছাড়া অস্থির লাগা
  • প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় অনলাইনে কাটানো
  • কাজ বা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
  • ঘুম কমে যাওয়া
  • পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কম কাটানো
  • বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখার ইচ্ছা হওয়া

কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবেন?

অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতা কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

  • প্রতিদিন স্ক্রিন ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন।
  • খাওয়ার সময় বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন দূরে রাখুন।
  • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
  • নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম বা বাইরে সময় কাটান।
  • বই পড়া, গান শোনা বা অন্য কোনো শখের কাজে সময় দিন।

কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

যদি অনলাইনে কাটানো সময়ের কারণে ঘুম, কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা মানসিক স্বাস্থ্য গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন। তবে সুস্থ থাকার জন্য প্রযুক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। অনলাইনে সময় কাটানোর চেয়ে সেই সময়ের গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি শরীর ও মনও সুস্থ রাখা সম্ভব।

সূত্র: সিএনএন