logo

৩০ বছরের পর বাড়ে পেটের চর্বি

৩০ বছরের পর বাড়ে পেটের চর্বি

অনেকেই মনে করেন ডায়েট পরিবর্তন বা জিমে ঘাম ঝরালেই পেটের চর্বি কমবে। কিন্তু ৩০ বছরের পর পেটের চর্বি কমানো অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। ফ্রেমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার বোর্ড-সার্টিফায়েড গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ড. সৌরভ সেতি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছেন, অনেকেই ৩০ বছরের পর শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আপনার অভ্যাস অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও কি পেটের চর্বি বেড়েছে? পেটের চর্বি কমাতে এবং হজম ভালো রাখতে চাইছেন? খবর এনডিটিভি

ফ্রেমন্ট-এর মতে, ৩০ বছরের পর শরীরে যে পরিবর্তনগুলো হয় তা হলো - 

ওজন বৃদ্ধি: একই খাবারও বেশি পেটের চর্বি তৈরি করে

ব্যায়ামের প্রভাব কমে: একই ব্যায়াম কম ফল দেয়

পরিবর্তন স্পষ্ট হয়: মাঝে মাঝে ‘চিট ডে’ ওজন বাড়িয়ে দেয়

ড. সেতি বলছেন, এটি এলোমেলো ঘটনা নয় অর্থাৎ, এই পরিবর্তনগুলোর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

পেটের চর্বি বাড়ার কারণ

ড. সেতি ব্যাখ্যা করেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পেশির পরিমাণ কমে। ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি দশকে ৩-৮ শতাংশ পেশি হারানো স্বাভাবিক। এর ফলে বিপাকীয় হার (metabolism) কমে যায়। তিনি বলেন, ‘কেবল ১ কেজি পেশি কমলেও দৈনিক ক্যালোরি খরচ কমে যায়।’

পেশির পরিমাণ কমে গেলে গ্লুকোজ হজম ও চর্বি জমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড. সেতি বলেন, পেশি শরীরের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ গ্লুকোজ ব্যবহার করে। পেশি কমলে গ্লুকোজ রক্তে দীর্ঘ সময় থাকে এবং পেটের চর্বিতে জমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এছাড়া, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা প্রতি দশকে প্রায় ৪-৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেটও রক্তে বেশি শর্করা (sugar spike) তৈরি করে এবং পেটের চর্বি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

৩০-এর পর হরমোনের পরিবর্তনও ঘটে। বৃদ্ধি হরমোন ও যৌন হরমোন যেমন টেস্টোস্টেরন বা ইস্ট্রোজেন কমে যায়, কিন্তু কর্টিসল বেড়ে যায়। এই পরিবর্তন পেটের গভীর চর্বি জমার জন্য সহায়ক। ফলে, 

- ভিসেরাল ফ্যাট বা গভীর পেটের চর্বি দ্রুত জমে

- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চারপাশে চর্বি জমে ইনসুলিন প্রতিরোধ (insulin resistance) এবং প্রদাহ বৃদ্ধি পায়

- যাদের ফ্যাটি লিভার, প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি

বিপাক কমার প্রাথমিক লক্ষণ

ড. সেতি জানান,

- ওজন একই থাকলেও পেট বড় হয়

- দুপুরে ক্লান্তি বা এনার্জি কমে যাওয়া

- চিনি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি

- কার্বোহাইড্রেটের পরে ফোলাভাব

- পেটের উপরের অংশে চর্বি জমা

সমাধান ও করণীয়

ড. সেতি বলেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারার পরিবর্তন পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তিনি কয়েকটি মূল পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রোটিনের পরিমাণ : দৈনন্দিন ওজন অনুযায়ী ১.২-১.৬ গ্রাম প্রতি কেজি

স্ট্রেন্থ ট্রেনিং: সপ্তাহে ৩ বার বা তার বেশি

প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি: ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য

পর্যাপ্ত ঘুম: ৭-৮ ঘণ্টা

ড. সেতি বলেন, পেটের চর্বি কমানোর জন্য নিয়মিত পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক জীবনধারা অপরিহার্য।