logo

‘শিশুদের হামের ঝুঁকি বাড়ছে, সময়মতো টিকা নিন’

‘শিশুদের হামের ঝুঁকি বাড়ছে, সময়মতো টিকা নিন’

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, যা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এসএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তসলিম উদ্দিন খান।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ আহ্বান জানান তিনি। তসলিম উদ্দিন খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ণ টিকাদানই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ সুরক্ষা। 

তিনি বলেন, শিশুকে নির্ধারিত সময়েই টিকা দেওয়া জরুরি—প্রথম ডোজ (MR-1) ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ (MR-2) ১৫ মাস বয়সে। দুই ডোজ সম্পূর্ণ না হলে শিশু পূর্ণ সুরক্ষা পায় না, ফলে সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি থেকে যায়। আমরা অভিভাবকদের আহ্বান জানাই, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করে শিশুদের হামের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখুন।

সম্প্রতি হামে আক্রান্ত শিশুদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স নয় মাসের কম। বর্তমানে নয় মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়। এ কারণে হামের টিকা দেওয়ার বয়স কমিয়ে ছয় মাস করার সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ। গত সোমবার (৩০ মার্চ) এই সুপারিশ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সদস্য হালিমুর রশিদ বলেন, ছয় মাসের শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে কেবল বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে। আগামী জুন বা জুলাই মাসে এই কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হামের টিকা দেওয়ার বয়স আগের মতোই ৯ মাস থাকছে।

এদিকে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে হামের জরুরি টিকাদান (ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিনেশন) কার্যক্রম শুরু করছে সরকার। দেশের যেসব উপজেলায় শিশুরা হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, প্রথমে ওই সব উপজেলা থেকে এই টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ ঘোষণা দিয়েছেন।

উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন

হামের উপসর্গ দেখা দিলে ওই শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। দ্রুততম সময়ে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধও ডোজ না জেনে ছোট শিশুকে সেবন করানোর সুযোগ নেই। মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।

ডায়রিয়া, বারবার বমি হওয়া, কান পাকা (কান থেকে পুঁজ বা পানি পড়া), শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে দেরি করবেন না।