logo

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কী খাবেন, কী খাবেন না

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কী খাবেন, কী খাবেন না
ছবি : সংগৃহীত

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা, যা বয়সভেদে অনেকেরই হতে পারে। পেট পরিষ্কার না হওয়া, মলত্যাগে কষ্ট, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে। তবে সুখবর হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সঠিক খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার হজমপ্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং মল নরম রাখতে সাহায্য করে, আবার কিছু খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কী?

যখন মলত্যাগের সংখ্যা কমে যায়, মল শক্ত হয়ে যায় বা মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়, তখন তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। সাধারণভাবে সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হলে সেটিকে কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। তবে সবার স্বাভাবিক অভ্যাস এক নয়, তাই শুধু সংখ্যার চেয়ে মলত্যাগের সময় অস্বস্তি হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন হয় কোষ্ঠকাঠিন্য?

কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন—

  • খাদ্যতালিকায় আঁশের অভাব
  • পর্যাপ্ত পানি না পান করা
  • শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা
  • মানসিক চাপ
  • অনিয়মিত জীবনযাপন
  • মলত্যাগের চাপ বারবার উপেক্ষা করা

এ ছাড়া কিছু ওষুধ বা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে যেসব খাবার খেতে পারেন

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, কিছু খাবার অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়ে মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কিউই: কিউইতে প্রচুর আঁশ থাকে, যা হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়ক হতে পারে।

তিসি বীজ: তিসি বীজে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশই রয়েছে। এটি মলকে নরম করে এবং অন্ত্রের চলাচল সহজ করে।


মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলুর আঁশ হজমতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।

শুকনো বরই: শুকনো বরই বা প্রুনস দীর্ঘদিন ধরেই কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে পরিচিত। এটি অন্ত্রের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে।

পালং শাক: আঁশসমৃদ্ধ এই শাক হজম ভালো রাখতে এবং মলত্যাগ সহজ করতে সহায়তা করে।

কফি: অনেকের ক্ষেত্রে কফি অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং মলত্যাগের তাগিদ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

ওটস: ওটস বা ওটমিল আঁশের ভালো উৎস। এটি মল নরম রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক।

নাশপাতি: নাশপাতিতে থাকা আঁশ ও পানির পরিমাণ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

চিয়া সিড: চিয়া সিড পানির সঙ্গে মিশে জেলির মতো রূপ নেয়, যা মলকে নরম রাখতে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

যেসব খাবার কম খাওয়া ভালো

চিজ: চিজে আঁশের পরিমাণ খুব কম। তাই অতিরিক্ত চিজ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে।

সাদা চাল: পরিশোধিত সাদা চালে আঁশ কম থাকায় এটি মল শক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

চকলেট: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চকলেট হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।

ভাজাপোড়া খাবার: অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে।

কাঁচা কলা: পাকা কলা হজমে সহায়ক হলেও কাঁচা কলা অনেক সময় মলকে আরও শক্ত করে দিতে পারে।

অ্যালকোহল: অ্যালকোহল শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ।

সাদা পাউরুটি: ময়দা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এতে আঁশ কম থাকে এবং এটি হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে।

ফাস্ট ফুড: ফাস্ট ফুডে সাধারণত চর্বি বেশি এবং আঁশ কম থাকে। নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে।


শুধু খাবার নয়, বদলাতে হবে কিছু অভ্যাসও

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। যেমন—

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা
  • মলত্যাগের চাপ পেলেই দেরি না করা
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এটি নানা শারীরিক অস্বস্তি ও জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ছোট ছোট অভ্যাসগত পরিবর্তনই হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্বস্তি পেতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি