কালো তিল খেলে শরীরে আসবে যেসব পরিবর্তন

ছোট্ট কালো তিল পুষ্টিগুণে বেশ সমৃদ্ধ। সর্দি-কাশি বা বিভিন্ন রোগের ঘরোয়া টোটকায় কালো তিল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অতি পরিচিত এই কালো তিলে ফাইবার, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কালো তিল খেলে হজমশক্তি ভালো রাখা, হাড় ও পেশির সুস্থতা বজায় রাখা ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে।
তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে, যা আগে থেকে জানা জরুরি। কালো তিলকে প্রতিদিনের খাবারে যুক্ত করলে শরীর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পেতে পারে। তবে হঠাৎ বেশি পরিমাণে না খেয়ে ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
কালো তিল খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন হতে পারে
হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক
কালো তিলে প্রচুর ফাইবার আছে। ২৮ গ্রাম কালো তিলে প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়। এর বাইরের আবরণ অক্ষত থাকায় এতে সাদা তিলের তুলনায় বেশি ফাইবার থাকে।
ফাইবার মলকে নরম করে মলত্যাগের প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করে। আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কালো তিল খেলে ভালো ফল পেতে পারেন।
শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান বাড়ায়
কালো তিলে ভিটামিন ই, ফ্ল্যাভোনয়েড ও পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করতে পারে। সাদা তিলের তুলনায় কালো তিলে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে
কালো তিলে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ ও কোষের কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় এর স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু কালো তিল খেলেই যে স্মৃতিশক্তি বাড়বে বা আলঝেইমারের ঝুঁকি কমবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হাড় ও পেশির সুস্থতায় ভূমিকা রাখে
হাড় ও পেশি ভালো রাখতে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কালো তিলে এই তিনটি খনিজ উপাদানই আছে। প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ কালো তিলে প্রায় ১৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম আয়রন এবং ৬৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যেতে পারে।
ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। আর আয়রন শরীরে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য জরুরি।
প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে
কালো তিলে প্রায় ২০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। শরীরের কোষ, পেশি ও বিভিন্ন টিস্যু গঠনে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে শুধু কালো তিল খেয়ে শরীরের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। বরং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি এটি পুষ্টির একটি অতিরিক্ত উৎস হতে পারে।
এ ছাড়া ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকার কারণে খাবারের সঙ্গে কালো তিল খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা মনে হতে পারে।
কালো তিল খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা জরুরি
পুষ্টিগুণ থাকলেও সবার জন্য কালো তিল সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফাইবার পেটের অস্বস্তি, গ্যাস বা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই প্রথমেই বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে শুরু করা ভালো। ধীরে ধীরে শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিলের অ্যালার্জি। কারও কারও ক্ষেত্রে তিল খাওয়ার পর চুলকানি, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেভাবে খাবারে কালো তিল যোগ করবেন
কালো তিল খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো পদ্ধতির দরকার নেই। প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গেই এটি যোগ করতে পারেন। যেমন-
- দইয়ের সঙ্গে কালো তিল মিশিয়ে খেতে পারেন।
- সালাদ বা রান্না করা সবজির উপর ছড়িয়ে দিতে পারেন।
- স্মুদি বা ওটসের সঙ্গে যোগ করতে পারেন।
- বিভিন্ন নাশতা ও মুখরোচক খাবারে ব্যবহার করতে পারেন।
কালো তিল পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। তবে কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন গণমাধ্যম হেলথ-এ ‘What Happens to Your Body When You Add Black Sesame to Your Diet’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সাবিহা তাবাসসুম শুচি।
