logo

বিনামূল্যে চিকিৎসা পেল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ১৫৩ শিশু

বিনামূল্যে চিকিৎসা পেল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ১৫৩ শিশু

জন্মগত হৃদরোগ শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক— প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর সামর্থ নেই এমন ১৫৩ জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে বিনামূল্যে জটিল চিকিৎসা দিয়েছে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।

চলতি বছরের ২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০৮ জনের হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়। এছাড়াও ১৪ শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ জনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৯ শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জানিয়েছেন শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত চিকিৎসক ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।

এর আগে এই রমজানে ৩১ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে মোট ১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নুরুন্নাহার ফাতেমা বলেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডাক্তার আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডাক্তার প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চিফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলমসহ প্রমুখ।

পাশাপাশি কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডাক্তার মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডাক্তার ইয়াদ আল অমৌরি, প্যালেস্টাইন থেকে ডাক্তার হাসান, কাতার থেকে ডাক্তার আব্দুল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।