পান্তা খাওয়া উচিত না যাদের

পান্তা ভাত মূলত একটি ফারমেন্টেড খাবার। অর্থাৎ ভাত পানি দিয়ে রেখে দিলে এতে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে হজমে উপকারী হলেও সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। তাই কিছু নির্দিষ্ট মানুষের জন্য পান্তা বা ফারমেন্টেড খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
চলুন জেনে নিই কাদের পান্তা খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রথমত, যাদের হিস্টামিন অসহিষ্ণুতা আছে তাদের পান্তা খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। ফারমেন্টেড খাবারে হিস্টামিন বেশি থাকে। শরীরে এটি ভাঙার সক্ষমতা কম থাকলে মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা বা অ্যালার্জির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, যেমন ক্যানসার চিকিৎসা নিচ্ছেন বা দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছেন, তাদের জন্য পান্তা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এতে থাকা জীবিত ব্যাকটেরিয়া কখনো কখনো সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
পাশাপাশি, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। সব ধরনের ফারমেন্টেড খাবার নিরাপদ নয়, বিশেষ করে ঠিকভাবে প্রস্তুত না হলে এতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই এদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে এবং ভালোভাবে প্রস্তুত খাবার খাওয়াই নিরাপদ।
যাদের পেটের সমস্যা আছে, যেমন আইবিএস বা সংবেদনশীল হজম ব্যবস্থা, তাদের পান্তা খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ ফারমেন্টেড খাবারে থাকা প্রোবায়োটিক সব সময় সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না।
এছাড়া যারা লবণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন, যেমন উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাদেরও সতর্ক থাকা দরকার। অনেক সময় পান্তার সঙ্গে লবণযুক্ত ভর্তা বা আচার খাওয়া হয়, যা সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সবশেষে, নতুন করে পান্তা খাওয়া শুরু করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িক গ্যাস, অস্বস্তি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সংক্ষেপে বলা যায়, পান্তা অনেকের জন্য উপকারী হলেও সবার জন্য নয়। নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র : কালচারস ফর হেল্থ