Advertisement

যে খাবারগুলো নিয়মিত খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
যে খাবারগুলো নিয়মিত খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে

বর্তমান সময়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ফাস্ট ফুডের প্রতি ঝোঁক এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রা এই সমস্যার অন্যতম কারণ। অনেকেই প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, কিন্তু হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তখনই বোঝা যায় সমস্যাটি কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে পেটের পাশ বা কোমরের দিকে তীব্র ব্যথা, বমিভাব কিংবা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিডনিতে পাথরের সাধারণ লক্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ এই সমস্যার কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। শুধু তাই নয়, একবার কিডনিতে পাথর হলে ভবিষ্যতে আবার হওয়ার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। তবে ভালো খবর হলো, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কিডনি সুস্থ রাখতে কী খাচ্ছেন, কতটা পানি পান করছেন এবং জীবনযাত্রা কেমন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই মনে করেন কিডনিতে পাথর হঠাৎ করেই হয়, কিন্তু বাস্তবে এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই শুরু থেকেই সচেতন হলে ঝুঁকি কমানো যায়। বিশেষ করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু উপকারী খাবার যুক্ত করা এবং ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দিলে কিডনির সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়।

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ কী

জিনগত কারণ কিছুটা ভূমিকা রাখলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ। নির্দিষ্ট একটি কারণ নয়, বরং কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে কাজ করে। যেমন:

  • অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া যেমন লাল মাংস, মুরগি, ডিম, সামুদ্রিক মাছ
  • বেশি লবণ বা চিনি জাতীয় খাবার গ্রহণ
  • শরীরে পানির ঘাটতি
  • হজমজনিত সমস্যা যেমন ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ
  • পরিবারে কারও কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকা
  • স্থূলতা
  • কিছু রোগ যেমন প্যারাথাইরয়েড সমস্যা
  • কিছু ওষুধ যেমন ডাইইউরেটিকস

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়

খাদ্যাভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করা উচিত
  • লেবু বা কমলার রস পান করুন
  • এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পাথর গঠনে বাধা দেয়
  • ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান
  • লবণ কম খান
  • প্রাণিজ প্রোটিন কমিয়ে দিন
  • বিট, চকোলেট, পালং শাক, চা, বাদাম ইত্যাদি অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার কম খান
  • অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন

কিডনির পাথর কি নিজে থেকেই সেরে যায়

ছোট পাথর অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। তবে বড় পাথরের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন যাতে প্রস্রাব স্বচ্ছ থাকে
  • উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেশি খান যেমন ডাল, ছোলা
  • খাদ্যতালিকায় ক্র্যানবেরি যোগ করতে পারেন
  • মাছের তেল যেমন স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকারেল উপকারী
  • ক্যাফেইন কমান
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
  • কিডনিতে পাথর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • ক্যালসিয়াম সবসময় ক্ষতিকর নয়, বরং পরিমিত ক্যালসিয়াম পাথর প্রতিরোধে সহায়ক
  • প্রতি ১০ জনে ১ জন জীবনে একবার হলেও এই সমস্যায় ভোগেন
  • পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়
  • পাথরের আকার ছোট দানার মতো থেকে বড় বলের মতোও হতে পারে
  • খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে নতুন পাথর প্রতিরোধ করা সম্ভব

যেসব খাবার কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়

কিছু খাবার নির্দিষ্ট মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন:

  • অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
  • কোমল পানীয়
  • ফাস্ট ফুড
  • প্রক্রিয়াজাত মাংস
  • কিছু সাপ্লিমেন্ট
  • ব্ল্যাক টি
  • চকোলেট
  • পালংশাক
  • সয়াদুধ
  • বাদাম

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সহায়ক ৫টি খাবার

পানি : পানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে।

লেবু : লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পাথর তৈরি হতে বাধা দেয় এবং আগের পাথর ভাঙতেও সাহায্য করে।

সবুজ শাকসবজি : ব্রকলি, বাঁধাকপি, কেল জাতীয় সবজিতে পটাশিয়াম থাকে যা পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে।

শস্যদানা : লাল চাল, ওটস ইত্যাদি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা পাথর প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার : দুধ ও দই কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

কিডনিতে পাথর একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক সমস্যা। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিয়মিত সচেতনতা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া কিডনি সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।