‘ওভারিয়ান ক্যানসার’ কী কীভাবে হয়, চিকিৎসা পদ্ধতি জানালেন ডা. হ্যাপী

মরণব্যাধি ক্যানসার নিয়ে জানা-অজানার শেষ নেই। রোগটির বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। প্রতিটিই ভিন্ন রকম। এরমধ্যে একটি ‘ওভারিয়ান ক্যানসার’। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে এটি নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ না থাকায় একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। এ ক্যানসারের উপসর্গ ও চিকিৎসা নিয়ে নারীদের সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকার (অনকোলজিস্ট) অধ্যাপক ডা. হ্যাপী হক।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. হ্যাপী হক বলেন, “নারীদের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার তালিকায় অষ্টম অবস্থানে ‘ওভারিয়ান ক্যানসার’। বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন লাখ নারী এ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে মারা যান প্রায় দুই লাখ। দেশের সবশেষ (২০২০) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার নারী এ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।”
তিনি বলেন, ‘রোগীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তার প্রধান অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ইনভেস্টিগেশনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ওভারিয়ান ক্যানসারের ক্ষেত্রে সাধারণত পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড ও ট্রান্সভাজিনাল আল্ট্রাসাউন্ড করার পর টিউমার মার্কার পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মূল ইনভেস্টিগেশনে যাওয়া হয়।’
চিকিৎসার ধরণ কীভাবে নির্ধারিত হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. হ্যাপী বলেন, ‘রোগ যদি প্রাথমিক বা দ্বিতীয় স্টেজে থাকে, তবে সার্জারির পর কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, স্টেজ থ্রির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগে সার্জারি করা হবে, নাকি কেমোথেরাপি। সার্জারির মাধ্যমেই যদি ক্যানসারের সমস্ত অংশ পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়, আগে সার্জারি পরে কেমোথেরাপি দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করে, সার্জারির মাধ্যমে সম্পূর্ণ টিউমার বের করা সম্ভব নয়, তবে আগে কেমোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে তিন সাইকেল টার্গেটেড থেরাপি সম্পন্ন করে রোগীকে সার্জারিতে যেতে হবে। সার্জারি শেষ হওয়ার পর বাকি তিন সাইকেল কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় একই সময়ে টানা ৫ মাস টার্গেটেড থেরাপির চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনা করে কোনো কোনো সময় প্যালিয়েটিভ কেমোথেরাপি শুরু করতে হয় এবং রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যালিয়েটিভ সার্জারি করতে হয়।’
অনকোলজিস্ট এ অধ্যাপক বলেন, ‘কেমোথেরাপি নিয়ে নারীদের মনে নানা ভীতি থাকা খুবই স্বাভাবিক। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো প্রশমনের জন্য বর্তমানে কার্যকর ওষুধ রয়েছে। সাধারণত প্রথম ও দ্বিতীয়বার কেমোথেরাপি দেওয়ার পর বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে তৃতীয়বার দেওয়ার পর বমি ভাব, খাবারে অরুচি বা শরীরে বিভিন্ন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।’
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করেন। আমার মতে, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। চিকিৎসা শেষ হওয়ার ৩ সপ্তাহ পরই নতুন ও সুন্দর চুল গজাতে শুরু করে, যা পূর্বেও ছিল না।’


-4f40d6.jpg)