logo

দুর্গন্ধও আপনার স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে

দুর্গন্ধও আপনার স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে

দুর্গন্ধ বা বাজে গন্ধ শুধু অস্বস্তিই তৈরি করে না, এটি আপনার শরীর ও মনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। শহরের ময়লার স্তূপ, ড্রেন, কারখানা বা বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের আশপাশে থাকা মানুষের জন্য এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।

অনেকেই দুর্গন্ধকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর বাস্তবেই প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন আমরা দুর্গন্ধে বিরক্ত হই

মানবদেহে ঘ্রাণশক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত কিছু সাধারণত ক্ষতিকর জীবাণু বা মূলত দূষণের ইঙ্গিত দেয়। এ দুর্গন্ধ মস্তিষ্কে খুব দ্রুত পৌঁছায়।

মস্তিষ্কে যেয়ে এটি আমাদের বিপদের সতর্কসংকেত দেয়, যার ফলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ওই গন্ধ থেকে দূরে সরে যেতে চাই।  আর অপরিচিত কোনো গন্ধ হলে মস্তিষ্ক সেটিকে অনেক সময় নেতিবাচক হিসেবেই ধরে নেয়।

দুর্গন্ধের সরাসরি স্বাস্থ্যে প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন দুর্গন্ধের মধ্যে থাকলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আসলে দুর্গন্ধ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি আমাদের ভেগাস নার্ভকে প্রভাবিত করতে পারে, যা মস্তিষ্ক ও পেটের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে বমি ভাব বা অস্বস্তি তৈরি হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

দুর্গন্ধ শুধু শরীর নয়, মনেও প্রভাব ফেলে। গবেষণা বলছে - দীর্ঘদিন দুর্গন্ধে থাকলে মানসিক চাপ বাড়ে, উদ্বেগ ও বিরক্তি তৈরি হয়। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান কমে যায়। 

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো গন্ধ নিয়ে আপনি যত বেশি চিন্তিত থাকবেন, তার প্রভাব তত বেশি অনুভব করবেন।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

দুর্গন্ধের কারণে অনেকেই তাদের দৈনন্দিন জীবন বদলে ফেলেন, যা স্বাস্থ্যকর নয়। যেমন - গরমেও জানালা বন্ধ রাখা, বাইরে যাওয়া, ব্যায়াম কমিয়ে দেওয়া অথবা সামাজিক কার্যক্রম এড়িয়ে চলা। 

এই ধরনের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

সবাই একইভাবে গন্ধ অনুভব করেন না

দুর্গন্ধের প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। বয়স, লিঙ্গ, অ্যালার্জি বা ধূমপানের মতো বিষয়গুলো নির্ধারণ করে কে কতটা গন্ধ অনুভব করবেন বা বিরক্ত হবেন।

দুর্গন্ধে অভ্যস্ত হওয়া কি সম্ভব?

সাধারণ বা ভালো গন্ধের ক্ষেত্রে আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাই। কিন্তু দুর্গন্ধের ক্ষেত্রে এটি সবসময় হয় না। বরং বারবার একই খারাপ গন্ধ পেলে বিরক্তি আরও বাড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষদের অনেক সময় এমন এলাকায় থাকতে হয় যেখানে ময়লার ভাগাড়, শিল্প কারখানা বা বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র আছে। এই কারণে তারা দুর্গন্ধের সমস্যায় বেশি ভোগেন।

ঘ্রাণশক্তির ইতিবাচক দিক

যদিও দুর্গন্ধ বিরক্তিকর, তবে ভালো ঘ্রাণশক্তি থাকা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে সাহায্য করে, স্মৃতিশক্তির সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে এবং মানসিক আনন্দ বাড়াতে পারে। 

অন্যদিকে, যাদের ঘ্রাণশক্তি নেই, তাদের খাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ে। দুর্গন্ধ শুধু অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

দুর্গন্ধকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে শহুরে জীবনে।

যেখানে সম্ভব, দুর্গন্ধের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে, নিজের জীবনযাত্রায় এমন পরিবর্তন আনা উচিত যাতে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।

সূত্র : বিবিসি