logo

প্রতিদিন আদা খেলে উপকারিতা যেমন আছে, অতিরিক্ত খেলে হতে পারে সমস্যাও

প্রতিদিন আদা খেলে উপকারিতা যেমন আছে, অতিরিক্ত খেলে হতে পারে সমস্যাও
ছবি : সংগৃহীত

আদা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি পরিচিত মসলা, যা হাজার বছর ধরে রান্না ও ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি জিঞ্জিবারেসি (Zingiberaceae) পরিবারের সদস্য। একই পরিবারের আরও পরিচিত সদস্য হলো হলুদ, এলাচ ও গালাঙ্গাল (galangal)।

আদা কাঁচা, শুকনো, গুঁড়ো, তেল বা রসের আকারে খাওয়া যায়। রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার ও সৌন্দর্যচর্চার পণ্যেও ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদার নানা উপকারিতা থাকলেও প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।


প্রতিদিন কতটুকু আদা খাওয়া নিরাপদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন আদা খাওয়া নিরাপদ হলেও এর পরিমাণ ৩ থেকে ৪ গ্রামের মধ্যেই সীমিত রাখা ভালো। অন্যদিকে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ১ গ্রামের বেশি আদা খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সি শিশুদের আদা না দেওয়ার পরামর্শই দেওয়া হয়।

প্রায় ১ গ্রাম আদার সমতুল্য হলো-

  • আধা চা-চামচ আদা গুঁড়া
  • ১ চা-চামচ কুচি করা কাঁচা আদা
  • আধা চা-চামচ কুচি করা আদা দিয়ে তৈরি প্রায় ৪ কাপ আদা-ভেজানো পানি

আদার স্বাস্থ্য উপকারিতা

শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: আদার প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো জিঞ্জারল (Gingerol)। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। জিঞ্জারল শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কোষকে সুরক্ষা দেয়।

বমিভাব কমাতে সাহায্য করে: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আদা বমিভাব ও বমি কমাতে কার্যকর হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর হওয়া বমিভাব, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং গর্ভাবস্থার মর্নিং সিকনেস কমাতেও আদা উপকারী বলে মনে করা হয়।

জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে: আদায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ই. কোলাই ও শিগেলা ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধে এটি কার্যকর হতে পারে। কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধেও আদা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

পেশির ব্যথা ও ক্লান্তি কমায়: আদা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কমে না গেলেও নিয়মিত খেলে পেশির ব্যথা ও অস্বস্তি কমতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত আদা খেয়েছেন তাদের পরদিনের পেশিব্যথা তুলনামূলক কম ছিল।

আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ উপশমে সহায়ক: আদার প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কিছু উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আদা শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে: নিয়মিত আদা খাওয়া এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে প্রতিদিন ৫ গ্রাম আদা গ্রহণকারীদের এলডিএল কোলেস্টেরল গড়ে ৩০ পয়েন্ট পর্যন্ত কমেছিল।

ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে: আদায় থাকা জিঞ্জারল ও শোগাওল শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ক্যালোরি খরচ বাড়তে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে।

অতিরিক্ত আদা খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

যদিও আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে অতিরিক্ত খেলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- বুকজ্বালা, গ্যাসের সমস্যা, পেটব্যথা ও মুখে জ্বালাপোড়া অনুভূতি।

এছাড়া যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে আদা কিছু ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে আদা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

রান্নাঘরের পরিচিত এই মসলাটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও নানা উপকার বয়ে আনে। বমিভাব কমানো থেকে শুরু করে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কমানো এবং ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার মতো সম্ভাব্য উপকারিতা রয়েছে আদার।

তবে যেকোনো উপকারী খাবারের মতোই এর ক্ষেত্রেও পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। সঠিক পরিমাণে আদা খেলে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা উপভোগ করা সম্ভব, আর অতিরিক্ত গ্রহণ করলে দেখা দিতে পারে অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

সূত্র:মেডিসিন নেট