Advertisement

শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের গভীরতাও কমাতে পারে ক্যাফেইন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের গভীরতাও কমাতে পারে ক্যাফেইন
ছবি : সংগৃহীত

অনেক মানুষের দিনের শুরুই হয় এক কাপ গরম কফি দিয়ে। আবার ব্যস্ত দিনের শেষে ক্লান্তি কাটাতেও কেউ কেউ সন্ধ্যায় বা রাতে কফি পান করেন। অনেকের ধারণা, যদি কফি খেয়েও সহজে ঘুমিয়ে পড়া যায়, তাহলে সেটি হয়তো কোনো সমস্যা তৈরি করছে না।

কিন্তু নতুন একটি গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

গবেষকদের মতে, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলে শুধু ঘুমের সময় কমে যায় এমন নয়, বরং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে। এমনকি কেউ যদি পুরো রাত ঘুমিয়েও থাকেন, তবুও তার মস্তিষ্ক হয়তো পুরোপুরি বিশ্রাম পাচ্ছে না।

পোল্যান্ডের ভ্রোৎসও মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এই বিষয়ে কাজ করেছেন। তারা জানান, মানুষের ঘুম কেমন হচ্ছে তা শুধু ঘুমের সময় দেখে বোঝা যায় না। মস্তিষ্ক ঘুমের মধ্যে কীভাবে কাজ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এজন্য তারা ব্যবহার করেছেন ইইজি বা ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি নামের একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ঘুমের সময় মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষক ডোনাটা কুরপাস বলেন, একজন মানুষ ঘুমাচ্ছেন কি না, শুধু সেটি নয়, বরং তার মস্তিষ্ক কী ধরনের ঘুমে আছে তাও ইইজি দেখাতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন ঘুমের গভীর অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে স্লো ওয়েভ স্লিপ নামের গভীর ঘুমের ধাপ কমে যেতে পারে। এই ধাপটি শরীরের বিশ্রাম, শক্তি পুনরুদ্ধার এবং মস্তিষ্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ একজন মানুষ হয়তো আট ঘণ্টা বিছানায় কাটিয়েছেন, কিন্তু তার মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম পায়নি।

গবেষকেরা আরও বলেন, অনেক সময় মানুষ মনে করেন তারা ভালো ঘুমিয়েছেন। কিন্তু মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গভীর ঘুমের লক্ষণ কম ছিল।

এই গবেষণার জন্য ৩২টি আলাদা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে ঘুমের মধ্যেও কিছুটা জাগ্রত অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়।

ফলে ঘুমালেও শরীর ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি সতেজ অনুভব না-ও করতে পারে।

তবে গবেষকেরা এটাও পরিষ্কার করেছেন যে ক্যাফেইনকে পুরোপুরি খারাপ বলা যাবে না। এর প্রভাব নির্ভর করে কতটুকু খাওয়া হচ্ছে, কখন খাওয়া হচ্ছে, ব্যক্তির বয়স, মানসিক চাপ, ঘুমের অভ্যাস এবং শরীরের সংবেদনশীলতার ওপর।

কারও ক্ষেত্রে সন্ধ্যার এক কাপ কফিও ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে, আবার কেউ হয়তো তেমন কোনো সমস্যা অনুভব করেন না।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি বা সকালে ঘুম ভাঙার পরও অবসন্নতা অনুভূত হয়, তাহলে সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দেখা যেতে পারে।

কারণ, অনেক সময় ছোট একটি অভ্যাসই নীরবে আমাদের ঘুমের মান কমিয়ে দিতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি