রাত ১১টার পর ঘুমাচ্ছেন, ডেকে আনছেন যেসব বিপদ

একটি সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রাত ১১টার পর ঘুমাতে যাওয়া হার্টের রোগসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আধুনিক জীবনযাপন, বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার, মানুষের ঘুমের অভ্যাসকে ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে। আগে যেখানে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেত, এখন অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন।
চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার করে, মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয় এবং বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক হতে থাকে।
ঘুম কম হলে বা অনিয়মিত হলে শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়। এতে মনোযোগ কমে যায়, বিরক্তি বাড়ে এবং দিনের কাজকর্মে সমস্যা দেখা দেয়।
হার্টের স্বাস্থ্যে ঘুমের ভূমিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো। কিন্তু নিয়মিত রাত জেগে থাকলে শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক নষ্ট হয়ে যায়। এতে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং হৃদস্পন্দনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
দেরিতে ঘুমানোর অন্য ক্ষতি
রাত জাগা মানুষের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হজমের সমস্যা, ধীর বিপাকক্রিয়া এবং সারাদিন কম শক্তি অনুভব করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
ঘুম কম হলে শুধু শরীর নয়, মনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না পেলে চাপ, উদ্বেগ এবং মুড পরিবর্তনের সমস্যা বাড়ে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কাজের দক্ষতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়।
কীভাবে ঘুমের মান উন্নত করা যায়
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন, টিভি বা কম্পিউটার ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া উচিত। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়।
এ ছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, রাতে বেশি ক্যাফেইন বা ভারী খাবার না খাওয়া এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখা ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক।
ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এটি শরীর ও মনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া। নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে ঘুমের সময় ও মানের দিকে নজর দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সামা নিউজ



