ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বাদের রোজা না রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢামেকের মিলন অডিটরিয়ামে এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ আয়োজিত ‘রমজান আপডেট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীরা রোজা রাখলে মা ও শিশু উভয়েরই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে রমজানের পরে সুস্থ হয়ে রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই গাইনিবিষয়ক চিকিৎসক।
হজ কিংবা ওমরাহ করার সময় আরও বেশি সচেতনতা প্রয়োজন জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা বলেন, হজ বা ওমরায় ডায়াবেটিস রোগীরা জমজমের পানি ও খেজুর খায়। তারা মনে করে অতিরিক্ত খেজুর খেলেও এ সময় রক্তের গ্লুকোজ বাড়বে না এবং সুগার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। এ ক্ষেত্রে এজেন্সিদের আরও সচেতন করতে হবে। তাদের বাস্তবধর্মী শিক্ষা দিতে হবে। ইসলাম এত কঠিন ধর্ম নয়, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।
হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সার্বিক সহযোগিতায় ঢামেকের এন্ডোক্রাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এন্ডোক্রাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা মির্জা শরিফুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এন্ডোক্রাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম সাইফুদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মইনুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফিরোজ হোসেন, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কমলেশচন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক ডা. তানজিনা জান্নাত সাম্মি, মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিজিএম মো. মাঈনুল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, এন্ডোক্রাইনোলজিস্টদের অনেক সোসাইটি আছে তারা সচেতনতার লক্ষ্যে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রথম রমজান থেকে আমাদের সাবধান হতে হবে। আবার রমজানের আগে থেকে যদি রোজা রাখার প্র্যাকটিস করা যায় তাহলে অনেক ভালো হয়। রমজান মুসলমানদের জন্য একটি আবেগের মাস। রোগীদের এই আবেগে আঘাত না করে সঠিক চিকিৎসা পরিচালনা করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দিন দিন নন কমিউনিকেবল ডিজিজ বেড়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণও চলছে। রোজা মুসলমানদের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। এটা আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকে গেছে। এ কারণে কাউন্সিলিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, ঢামেকের এন্ডোক্রাইন বিভাগের ১০২ নম্বর রুমে ডায়াবেটিস রোগীদের সব ধরনের কাউন্সিলিং করা হয়। এখানে রোগী পাঠাতে অনুরোধ করা হচ্ছে। তাছাড়া ডায়াবেটিসবিষয়ক ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ ও এমডি ডিগ্রি চলমান। আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে স্কোরিং করি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে। স্কোর ৩ দশমিক ৯ হলে ভেঙে রোজা ফেলতে বলি। স্কোর ৬ দশমিক ৫ এর নিচে হলে রোজা রাখতে পারবে। এখন ডায়াবেটিস নিয়ে আর আগের মত ভয় নেই। চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন অনেক ওষুধ আসছে যেগুলো অনেক বেশি কার্যকর।
সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখার বিষয়টা ঝুঁকিভিত্তিক হতে হবে। ঝুঁকি থাকলে রোজা রাখা যাবে না। রোজার চার থেকে সহায় সপ্তাহ আগে থেকেই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনায় আসতে হবে। আর রোজা রেখে গ্লুকোজ মাপলে রোজা ভাঙবে না। এটা ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী স্বীকৃত।