থাইরয়েড ক্যানসারের নীরব ৬ লক্ষণে সতর্ক হোন

শরীরের খুব ছোট একটি গ্রন্থি হলেও থাইরয়েড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন এমনকি হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই থাইরয়েড গ্রন্থিতেই যখন ক্যানসার তৈরি হয়, তখন অনেক সময় তা দীর্ঘদিন নীরবে শরীরের ক্ষতি করতে থাকে।
থাইরয়েড ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শুরুর দিকে এর লক্ষণ খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। অনেকেই সাধারণ গলা ব্যথা, স্বরের পরিবর্তন বা ঘাড়ে ছোট ফোলা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন না। অথচ এসব উপসর্গই হতে পারে থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘাড়ে ছোট গাঁট বা ফোলা
থাইরয়েড ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো ঘাড়ের সামনে ছোট চাকা বা গাঁটের মতো ফোলা দেখা যাওয়া। এটি সাধারণত ব্যথাহীন হয় বলে অনেকে অবহেলা করেন।
গলার স্বরে পরিবর্তন
হঠাৎ স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া বা কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া থাইরয়েডের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবর্তন থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
গিলতে সমস্যা
খাবার বা পানি গিলতে অস্বস্তি হওয়া, গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভূতি তৈরি হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফোলা
ঘাড়ের পাশে লিম্ফ নোড (লসিকাগ্রন্থি) ফুলে গেলে সেটিও থাইরয়েড ক্যানসারের কারণে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ফোলা থাকলে পরীক্ষা করানো জরুরি।
গলা বা ঘাড়ে ব্যথা
হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনেক সময় কানে পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। যদিও সব ব্যথাই ক্যানসারের কারণে হয় না, তবু দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা করা উচিত নয়।
জামার কলার টাইট লাগা
ঘাড়ে অস্বাভাবিক চাপ বা জামার কলার হঠাৎ টাইট লাগতে শুরু করাও থাইরয়েডের ফোলাভাবের লক্ষণ হতে পারে।
থাইরয়েড ক্যানসারের ধরন
থাইরয়েড ক্যানসারের কয়েকটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার, যা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে এবং চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেয়।
এ ছাড়া ফলিকুলার, মেডুলারি, হারথল সেল এবং এনাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসারও রয়েছে। এর মধ্যে এনাপ্লাস্টিক ধরনের ক্যানসার সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কারণে থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন -
- অতীতে মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া
- পরিবারে থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস থাকা
- কিছু জেনেটিক সমস্যা বা মিউটেশন
- নির্দিষ্ট জেনেটিক সিনড্রোম
তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াও এই ক্যানসার হতে পারে।
মনে রাখবেন, সময়মতো শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েড ক্যানসার সাধারণত ধীরে বাড়ে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ঘাড়ে অস্বাভাবিক ফোলা, গিলতে সমস্যা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনকে কখনোই অবহেলা করবেন না। কারণ সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারলে এই নীরব ঘাতককেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সূত্র : মায়ো ক্লিনিক
.png)







