মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ছিল না মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ: আদ্-দ্বীন

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে ঠিক কারণে মৃত্যু হয়েছে, তার সুস্পষ্ট তথ্য ছিল না বলে জানিয়েছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন।
তিনি বলেন, মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত হয়নি। ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও সুস্পষ্ট করা হয়নি। আমরাও বের করতে পারিনি।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিলের সঙ্গে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে সংস্কার শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে, তা সংস্কার শুরু হয়েছে।
সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনো-অক্সাইড যন্ত্র কেনা হয়েছে। আমরা বের করার চেষ্টা করছি যে শিশু ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে, সেটিও ঠিক করতে চাবি চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহেই সংস্কার করা যাবে।
প্রতিবেদনে যা বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
এর আগে গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এ ছাড়া ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কোনো সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত নার্সদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করে স্বাস্থ্য অধিদদপ্তর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। শোকজের জবাব সন্তুষ্ট না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
.png)

