রান্নায় তেলের ধরন নয়, পরিমাণ ও ব্যবহারের পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ

খাবার রান্না করা নিয়ে বর্তমানে আমাদের দেশে নানা মতামত শোনা যায়। কোন তেল ভালো, কীভাবে রান্না করলে বেশি উপকার—এসব নিয়ে আলোচনা যেন শেষই হয় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু তেলের ধরন নয়, কতটা তেল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে এটাই মূলত স্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সাধারণ ধারণার ওপর ভরসা না করে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও সঠিক পরামর্শ অনুসরণ করাই উচিত। একজন বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রান্নার তেল বাছাইয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তেলের গুণগত মান, পরিমাণ এবং রান্নার ধরন।
তেল ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় ভাবা জরুরি
স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে রান্নার তেল ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার
- তেলটি কি বেশি স্যাচুরেটেড চর্বি, নাকি আনস্যাচুরেটেড
- তেলটি ভাজা, নাকি ফোড়ন দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে
- রান্নার সময় তেল ধোঁয়া তৈরি করছে কি না
- একই তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে কি না
- পরিবারের মোট তেল খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না
- তেলের দোষ দিয়ে অন্য অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস উপেক্ষা করা হচ্ছে কি না
কোন ধরনের তেল ভালো?
সব তেল একরকম নয়। বিশেষ করে যাদের হৃদ্রোগ, অ্যালার্জি বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ আছে, তাদের জন্য তেল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে আনস্যাচুরেটেড তেল (যেমন—অলিভ তেল, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল ও বাদাম তেল) হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে ঘি, মাখন, পাম তেল বা নারকেল তেলে স্যাচুরেটেড চর্বি বেশি থাকে, তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
আসল সমস্যা হলো অতিরিক্ত তেল
স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত তেল ব্যবহার। ভালো তেল হলেও যদি বেশি ব্যবহার করা হয়, তাহলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের প্রতিদিন মোট দৃশ্যমান তেল বা চর্বি ২০ থেকে ৩০ গ্রাম হওয়া উচিত। আর রান্নার তেল দৈনিক ২ থেকে ৩ চা চামচের মধ্যে রাখা ভালো। এছাড়া ঘি বা মাখন ১ থেকে ২ চা চামচের বেশি না হওয়াই ভালো।
পরিবারের জন্য কতটা তেল যথেষ্ট
সহজভাবে হিসাব করলে—
একজন মানুষের জন্য মাসে প্রায় ৬০০ থেকে ৯০০ মিলিলিটার তেল যথেষ্ট।
চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসে প্রায় ২.৫ থেকে ৩.৫ লিটার তেলই আদর্শ।
এই হিসাবের মধ্যে রান্নার তেল, ঘি, মাখন, ভাজা খাবারের লুকানো তেল—সবকিছুই ধরা হয়।
সঠিকভাবে তেল ব্যবহার করার কিছু পরামর্শ
- একই তেল বারবার ব্যবহার না করা
- অতিরিক্ত ভাজাপোড়া কমানো
- কম তেলে রান্না করার অভ্যাস করা
- খাবারে তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ঘরে তৈরি খাবার বেশি খাওয়া
শুধু ভালো তেল ব্যবহার করলেই সুস্থ থাকা যায় না। তেলের পরিমাণ ও ব্যবহার পদ্ধতি ঠিক না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যায়।
তাই সুস্থ থাকতে চাইলে তেলের ধরন বাছাইয়ের পাশাপাশি পরিমিত ব্যবহার ও সঠিক রান্নার অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি।
সূত্র: এনডিটিভি