Advertisement

মুখের যেসব পরিবর্তনে সতর্ক হবেন, হতে পারে পেটের ক্যানসারের লক্ষণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মুখের যেসব পরিবর্তনে সতর্ক হবেন, হতে পারে পেটের ক্যানসারের লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

পেটের ক্যানসার বা গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারকে অনেক সময় নীরব ঘাতক বলা হয়। কারণ রোগটি শুরুতে সাধারণত স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখায় না। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কিছু ছোট পরিবর্তন, বিশেষ করে মুখ ও ত্বকে দেখা দেওয়া কিছু উপসর্গ, পেটের ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার মূলত পাকস্থলীর ভেতরের আবরণে অস্বাভাবিক কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ক্যানসার ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং প্রথম দিকে রোগী বিষয়টি বুঝতেই পারেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটের ক্যানসারের সঙ্গে একটি বিরল ত্বকের সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যার নাম প্যাপুলোএরিথ্রোডার্মা অব ওফুজি। এই সমস্যায় মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ি, ত্বক ওঠা, ফোলা ভাব ও চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মুখের ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তনই রোগটির প্রাথমিক সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া চোখ-মুখ ফোলা, ত্বকের রং পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘদিনের চুলকানিও শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

পেটের ক্যানসারের আরও কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। যেমন হঠাৎ ক্ষুধামন্দা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি, পেট ফাঁপা ভাব, অল্প খাবার খেলেই পেট ভরে যাওয়া, বমিভাব কিংবা বমির সঙ্গে রক্ত আসা। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বদহজম বা বুকজ্বালার সমস্যাও দেখা যায়।

চিকিৎসকদের মতে, লো হিমোগ্লোবিন বা রক্তস্বল্পতাও কখনও কখনও পেটের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

পেটের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো অ্যাডেনোকারসিনোমা, যা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে দেখা যায়। এছাড়াও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার, নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার এবং প্রাইমারি গ্যাস্ট্রিক লিম্ফোমার মতো আরও কিছু ধরন রয়েছে।

কী কারণে বাড়ে ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণযুক্ত, ধোঁয়ায় শুকানো বা আচারজাত খাবার বেশি খেলে পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি কম ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাসও ঝুঁকির একটি কারণ।

এ ছাড়া ধূমপান, স্থূলতা, দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, পাকস্থলীর প্রদাহ, আগের পেটের অস্ত্রোপচার কিংবা পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও ঝুঁকি বাড়ছে।


ক্যানসার কীভাবে ছড়ায়?

পেটের ক্যানসার ধীরে ধীরে আশপাশের টিস্যু, লিম্ফ নোড বা রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। উন্নত পর্যায়ে এটি লিভার, অগ্ন্যাশয়, কিডনি, অন্ত্র কিংবা প্লীহার মতো অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পেটের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাবারে বেশি করে ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাত খাবার রাখা উচিত।

পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

কীভাবে ধরা পড়ে রোগটি?

পেটের ক্যানসার শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত আপার এন্ডোস্কোপি বা ইজিডি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে পাকস্থলীর ভেতর সরাসরি দেখা যায় এবং অস্বাভাবিক অংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া