logo

রোগ নির্ণয় করি আমরা, স্বীকৃতি পায় চিকিৎসকরা

রোগ নির্ণয় করি আমরা, স্বীকৃতি পায় চিকিৎসকরা

বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অভিযোগ করেছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগ নির্ণয়ের কাজ করলেও তারা যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না; বরং এর সুফল ভোগ করেন চিকিৎসকেরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজির (বিএসএমএলটি) উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।

বক্তারা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের মতো বর্তমানে হাম-রুবেলার সংক্রমণ পরিস্থিতিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন টেকনোলজিস্টরা। কিন্তু তাদের জন্য নেই আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা কাঠামোগত স্বীকৃতি। এর ফলে অপর্যাপ্ত দক্ষতা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের কারণে ভুল রিপোর্টের ঘটনা ঘটছে, যার ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

তারা অবিলম্বে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জন্য দশম গ্রেডের পদমর্যাদা বাস্তবায়ন এবং একটি স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনের দাবি জানান।

এ সময় বক্তারা বলেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমরা অনেক পিছিয়ে। যেখানে একজন ডাক্তারের বিপরীতে হাসপাতালে তিনজন নার্স ও পাঁচজন টেকনোলজিস্ট থাকার কথা, সেখানে এই হার অত্যন্ত তলানিতে। আমাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় টেকনোলজিস্ট থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রয়েছে চিকিৎসকরা। আমরা রোগ নির্ণয় করি, তার সুফল ভোগ করেন চিকিৎসকরা। আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি, এমএসসি করাদের নিয়োগ দেওয়া হোক এবং দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করা হোক।

এ সময় সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি হেদায়েত হোসেন বলেন, ‘জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন ল্যাবরেটরিতে কর্মরত টেকনোলিজস্টরা। কিন্তু তারা সবচেয়ে বঞ্চিত। ল্যাবরেটরি রিপোর্টের মানোন্নয়ন ও সঠিক রিপোর্ট প্রদানে প্রত্যেকের দায়িত্ব অনুসারে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। এজন্য রিপোর্টে স্বাক্ষর দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংগঠনরি কেন্দ্রীয় সভাপতি মু. সোহেল রানা বলেন, ‘শুরু থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সবদিক থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মানেই এ দেশে চিকিৎসক ও নার্সদের সামনে আনা হয়। অথচ মূল কাজটাই হয় টেকনোলজিস্টদের হাতে। রোগ নির্ণয় না হলে চিকিৎসা হবে কীভাবে? অথচ এই টেকনোলজিস্টদের ১০ম গ্রেডের পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাম-রুবেলার রোগী অনেক বেড়েছে। আমরা রাত দিন অনেক শ্রম দিয়ে রিপোর্ট করছি সারা বাংলাদেশে। কিন্তু আমরা পর্দার অন্তরালে থাকায়, আমাদের নিয়ে কোনো কথা হয় না। ফলে প্রাধান্যও দিতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পেশার লোকদের নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণক সংস্থা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে একমাত্র পেশা যাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এটার জন্য স্বতন্ত্র কোনো শাখা নেই। বহু বছর ধরে স্বতন্ত্র কাউন্সিলের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু সেটিও হচ্ছে না। এখানে অল্প, স্বল্প ও কিছুদিন হাতে দেখে দেখে শেখাদের নিয়োগের কারণে প্রতিনিয়ত ভুল রিপোর্ট হচ্ছে। যার ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর দায়ভার ডায়াগনোস্টিক কমিউনিটির সবাইকে বহন করতে হচ্ছে। একটা জীবন সুচিকিৎসার জন্য ল্যাবরেটরির রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকে। যেখানে একটি সঠিক রিপোর্টের ওপর মানুষের সুচিকিৎসা নির্ভর করে, তখন এ পেশার লোকদের অবমূল্যায়ন করে কীভাবে স্বাস্থ্য খাতকে উন্নতি করবে? গতানুগতিক দিবস পালনের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। এর পাশাপাশি এ পেশার লোকদের জন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাউন্সিল করতে হবে।’

সোহেল রানা আরও বলেন, ‘হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনোসিস চালু রাখলে রোগী যেমন উপকৃত হবে, সরকারও রাজস্ব পাবে। এখাতের বিশেষজ্ঞরা বিদেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে, এ দেশে ১১তম গ্রেডে চাকরি তরতে হচ্ছে। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষার আশা যেমন হতাশায় পরিণত হয়েছে, তেমনি এর পেছনে যারা অর্থ ব্যয় করছে তাদের অর্থ, সময় অপচয় হচ্ছে। কাজেই সরকারের কাছে আহ্বান, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিকে সহজতর করার জন্য মানসম্মত রিপোর্টের জন্য ল্যাবরেটরিতে কাজ করা প্রত্যেকের কাজের ধরন অনুযায়ী কাজের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। সেই লক্ষ্যে কনসালটেন্টের পাশাপাশি টেকনলোজিস্টের স্বাক্ষর রাখতে হবে। আমাদের দাবি, অন্যান্য মেডিকেল ডিপ্লোমাধারীদের মতো আমাদেরও ১০ম গ্রেডের চলমান কার্যকম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’