দৈনন্দিন যেসব অভ্যাসে নীরবে বাড়ছে আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। টাইপ ১ হোক বা টাইপ ২; কোন অভ্যাসগুলো ঝুঁকি বাড়ায় তা জানা থাকলে সহজেই কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।
টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব অভ্যাস
টাইপ ১ ডায়াবেটিস মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে হয়। এটি জীবনযাপনের কারণে তৈরি না হলেও কিছু অভ্যাস রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
স্ট্রেস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
করণীয় : যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
খাবার বাদ দেওয়া
খাবার না খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয়।
করণীয় : অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান।
অনিয়মিত ব্যায়াম
শরীরচর্চা না করলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়।
করণীয় : সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা
নিয়মিত চেক না করলে জটিলতা বাড়ে।
করণীয় : ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চেক ও ইনসুলিন গ্রহণ করুন।
হাই/লো সুগারের লক্ষণ উপেক্ষা করা
হাইপারগ্লাইসিমিয়া (হাই সুগার) ও হাইপোগ্লাইসেমিয়া (লো সুগার) - দুটোই বিপজ্জনক।
করণীয় : সঙ্গে সবসময় গ্লুকোজ বা হালকা খাবার রাখুন।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব অভ্যাস
টাইপ ২ ডায়াবেটিস মূলত জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি প্রতিরোধযোগ্য।
অতিরিক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া
চিনি ও ফ্যাট বেশি হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে।
করণীয় : শাকসবজি, ফল, সম্পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খান।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
বসে থাকা জীবনযাপন ওজন বাড়ায় ও ঝুঁকি বাড়ায়।
করণীয় : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
ধূমপান
ধূমপান ইনসুলিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে।
করণীয় : ধূমপান ত্যাগ করুন।
ঘুমের অভাব
কম ঘুম হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
করণীয় : প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমান।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল
রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়।
করণীয় : পরিমিত মাত্রায় পান করুন বা এড়িয়ে চলুন।
আবেগজনিত খাওয়া
স্ট্রেস বা দুঃখে বেশি খেলে ওজন বাড়ে।
করণীয় : মাইন্ডফুল ইটিং চর্চা করুন।
পানিশূন্যতা
পানি কম খেলে শরীর অতিরিক্ত চিনি বের করতে পারে না।
করণীয় : প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা
ডেস্ক জব বা অলস জীবনযাপন ঝুঁকি বাড়ায়।
করণীয় : মাঝে মাঝে উঠে হাঁটুন বা স্ট্রেচিং করুন।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
নিয়মিত শরীরচর্চা
ব্যায়াম ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা প্রকৃতিতে সময় কাটান।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট অনুসরণ করতে পারেন—যাতে থাকে অলিভ অয়েল, মাছ, শস্য, শাকসবজি।
ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুম শরীরের হরমোন ও সুগার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস হঠাৎ করে হয় না। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয় আমাদের বিভিন্ন অভ্যাসের মাধ্যমে।
ছোট পরিবর্তন, যেমন - নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। মনে রাখবেন, আজকের সচেতনতা, আগামীর সুস্থতা নিশ্চিত করে।
সূত্র : স্ক্রিপস