দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান শিশু হাসপাতাল: ন্যাচার ইনডেক্স

দেশে সরকারিভাবে প্রায় ৭০০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেসরকারিভাবে রয়েছে ১৯ হাজারের বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা নেটওয়ার্ক ন্যাচার ইনডেক্স স্বাস্থ্যসেবা র্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে।
২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা সেবার মান, রোগী ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো জটিল রোগী ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং মেডিকেল গবেষণার জন্য এই স্বীকৃতি দিয়েছে গবেষণা নেটওয়ার্কটি।
ন্যাচার ইনডেক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শিশু হাসপাতালের পরই রয়েছে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতাল, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল।
এরপরেই রয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মিরপুরের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, আসগর আলী হাসপাতাল, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস), ঢাকার নিউরোজেন হেলথকেয়ার এবং গাজীপুরের তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪৫টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কটি। র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, জরুরি রোগী চিকিৎসা, ডেঙ্গু রোগী ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, মেডিকেল গবেষণা, সেবার মানকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও সংক্রামক রোগের গবেষক অধ্যাপক ডা. মো. মির্জা জিয়াউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘শিশু রোগীদের চিকিৎসায় এ হাসপাতালে দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বেশি। এখানকার চিকিৎসকেরা শুধু চিকিৎসা দেন না, গবেষণায়ও প্রাধান্য দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ব্যবস্থাপনা এবং আমরা যে সীমিত পরিসরে সেগুলো দিয়ে থাকি সেটিকেও গবেষণা নেটওয়ার্কটি বিবেচনায় নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রোগীরা যেন দেশেই চিকিৎসা নেয় সেই আস্থা আমরা তৈরি করতে চাই। শিশু হাসপাতাল এটি সরকারি কিংবা একেবারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মূলত অলাভাজনক একটি প্রতিষ্ঠান। কাজেই এখানকার চিকিৎসকেরা আলাদা কোনো সুবিধা পায় না। পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে এ হাসপাতালে বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হাসপাতালে রূপ নেবে, এটা আমাদের বিশ্বাস। নিঃসন্দেহে এই স্বীকৃতি আমাদের এগিয়ে চলাকে আরও জোরালো করবে।’
