টেস্টোস্টেরন কমেছে বুঝবেন যে ৯ লক্ষণে

পুরুষের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। বয়স, জীবনযাপন বা অন্যান্য কারণে এই হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। অনেক সময় শরীর আগেই কিছু সংকেত দেয়, কিন্তু আমরা সেগুলো গুরুত্ব দিই না।
সহজভাবে বললে, টেস্টোস্টেরন শরীরে পেশি, হাড়, মুড, শক্তি ও প্রজননক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। তাই এর ঘাটতি হলে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
নিচে এমন ৯টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো এই হরমোন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
চুল পাতলা হয়ে যাওয়া : শুধু মাথার চুল নয়, দাড়ি বা শরীরের চুলও কমে যেতে পারে। যদিও জেনেটিক কারণও এখানে ভূমিকা রাখে।
মনোযোগ কমে যাওয়া বা ব্রেন ফগ : মনে রাখা কঠিন হয়ে যাওয়া বা কাজের প্রতি মনোযোগ কমে গেলে সেটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
সবসময় ক্লান্ত লাগা : ভালো ঘুমের পরও যদি শরীর ভারী লাগে বা শক্তি না পান, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রক্তশূন্যতা : কম টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে অ্যানিমিয়া-এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
পেশি ও হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া : পেশির ভর কমে যাওয়া এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়া এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
মেজাজ পরিবর্তন : অল্পতেই রাগ, দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ হওয়া টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে।
হঠাৎ গরম লাগা : হঠাৎ গরম লাগা, ঘাম হওয়া বা ত্বক লাল হয়ে যাওয়া কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পেটে চর্বি জমা : হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেটের মেদ বাড়তে পারে। কখনো বুকের অংশেও চর্বি জমতে দেখা যায়।
প্রস্রাবের সমস্যা : ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা বা পুরোপুরি প্রস্রাব না হওয়ার অনুভূতি হতে পারে। এর সঙ্গে প্রোস্টেট গ্রন্থির পরিবর্তন জড়িত থাকতে পারে।
কীভাবে স্বাভাবিক রাখবেন
টেস্টোস্টেরন ঠিক রাখতে কিছু সাধারণ অভ্যাস খুবই কার্যকর
- নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম
- সুষম খাদ্যাভ্যাস
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- নিয়মিত ব্যায়াম
- ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
- মানসিক চাপ কমানো
এ ছাড়া প্লাস্টিকসহ কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক কম ব্যবহার করাও ভালো। যদি এসব লক্ষণ নিয়মিত দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, শরীর ছোট ছোট সংকেত দিয়েই অনেক বড় সমস্যার কথা জানায়। তাই সচেতন থাকাই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
সূত্র : ব্রাইট সাইড