logo
বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন

চিকিৎসকদের ওপর হামলা কর্মপরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলছে

চিকিৎসকদের ওপর হামলা কর্মপরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলছে
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনরত সরকারি চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের হামলা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো ও কর্মপরিবেশকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

সোমবার (১৫ জুন) সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ক্যাডাররা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও প্রেস নোট উপস্থাপন করেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক ডা. আহমেদ খালেদুর রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন।

‘নিরাপদ কর্মস্থল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অধিকার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এ সময় চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতে আলাদা ‘স্বাস্থ্য পুলিশ’ গঠন, ডিজিটাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম চালুসহ সরকারের কাছে ১৭ দফা প্রস্তাবনা জানায় সংগঠনটি।

বক্তারা বলেন, বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে গড় আয়ু বৃদ্ধি (৭২ বছরের বেশি) এবং শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোসহ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে এই অর্জনের পেছনে নিরলস কাজ করে যাওয়া চিকিৎসকদের বাস্তব কর্মপরিবেশ আজ সংকটাপন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে শরিয়তপুর, কুমিল্লা, বরিশাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের ওপর ধারাবাহিক ও ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার স্বাস্থ্য বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে এই বাজেট পুরোপুরি ব্যয় করা যায় না, যা দূর করা প্রয়োজন।

উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আনসার নিয়োগের সাময়িক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তারা।

তাদের মতে, এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পরবর্তীতে আলাদা ‘স্বাস্থ্য পুলিশ’ গঠন এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের ‘প্রতিপক্ষ’ না ভেবে ‘সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন, হাসপাতালে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন, হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় মামলা বাধ্যতামূলকভাবে করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মানসিক ও আইনি সহায়তা সেল চালুর দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়াও প্রস্তাবনায় রয়েছে, নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা, ‘চিকিৎসক ও রোগী প্রতিপক্ষ নয়, সহযোদ্ধা’—এই বার্তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আধুনিক অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন, ক্যাডার সার্ভিসের আইন, জ্যেষ্ঠতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনভিত্তিক নতুন পদসৃষ্টি নিশ্চিতকরণ, শয্যা সংখ্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি বন্ধ এবং বাস্তবসম্মত রোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসকের জন্য দৈনিক রোগী দেখার যৌক্তিক সীমা নির্ধারণ (প্রতি চিকিৎসক সর্বোচ্চ ৪০ জন রোগী), সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন সব শূন্যপদে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, জরুরি বিভাগ, ট্রমা সেন্টার, আইসিইউ, সিসিইউ ডায়ালাইসিস ইউনিটসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকিভাতা প্রদান, ঈদসহ সব সরকারি ও নির্বাহী আদেশে ছুটির সময় দায়িত্ব পালনকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সম্পাদক ডা. শাহেদুর রহমান সোহাগ ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ডা. মফিজুর রহমান।