কোন বয়সের পর কমতে শুরু করে শুক্রাণু

পুরুষের বয়স বাড়লেও সন্তান নেওয়ার সক্ষমতা দীর্ঘদিন অটুট থাকে, এমন ধারণা প্রচলিত। নারীদের ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে উর্বরতা কমার বিষয়টি বেশি আলোচিত হলেও পুরুষের বয়সও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও মানে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে।
ব্রিটিশ ফার্টিলিটি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পুরুষের উর্বরতা সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের দিকে কমতে শুরু করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ৪০ বছর পার হলেই একজন পুরুষের সন্তান নেওয়ার ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভধারণে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে এবং শুক্রাণুর মানের পরিবর্তনের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুক্রাণু তৈরিতে বয়সের প্রভাব কী?
নারীরা নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মান। পুরুষদের বিষয়টি আলাদা। বয়ঃসন্ধির পর থেকে পুরুষের শরীরে নিয়মিত শুক্রাণু তৈরি হয়। ফলে একজন পুরুষ অনেক বেশি বয়সেও শুক্রাণু তৈরি করতে পারেন।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই প্রক্রিয়াও আগের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা, চলনক্ষমতা এবং গঠন বা আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর ডিএনএতে ক্ষতির প্রবণতাও বাড়তে পারে। এর ফলে গর্ভধারণে বেশি সময় লাগার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা সন্তানের কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে এই প্রভাব অনেকটাই আলাদা।
৪০ বছর মানেই কি উর্বরতা শেষ?
একেবারেই নয়। ৪০ বা ৪৫ বছর বয়সের পরও অনেক পুরুষ বাবা হন। এখানে ৪০ বা ৪৫ বছরকে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি এমন একটি বয়সসীমা, যার আশপাশ থেকে বয়সজনিত পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বেশি স্পষ্ট হতে পারে।
একজন পুরুষের উর্বরতা নির্ভর করে তার সামগ্রিক স্বাস্থ্য, শুক্রাণুর মান, জীবনযাপন এবং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ওপরও।
যৌনক্ষমতা আর উর্বরতা এক নয়
পুরুষের উর্বরতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা হলো, যৌনক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। আসলে দুটি বিষয় আলাদা।
একজন পুরুষের যৌন ইচ্ছা, যৌনসম্পর্ক করার সক্ষমতা এবং বীর্যপাত স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু বীর্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে, শুক্রাণু ঠিকমতো চলাচল করতে না পারলে বা শুক্রাণুর গঠনে সমস্যা থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
তাই শুধু যৌনক্ষমতার ভিত্তিতে পুরুষের উর্বরতা সম্পর্কে ধারণা করা যায় না।
সন্তান নিতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বীর্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। এই পরীক্ষায় শুক্রাণুর সংখ্যা, চলনক্ষমতা ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু বয়স নয়, দৈনন্দিন জীবনযাপনও শুক্রাণুর মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা এবং কিছু শারীরিক সমস্যা পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো।
তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বয়সজনিত পরিবর্তন পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। বয়সের সঙ্গে উর্বরতার যে স্বাভাবিক পরিবর্তন হয়, সেটি আলাদা একটি প্রক্রিয়া।
শুধু পুরুষের বয়স দেখলেই হবে না
সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু নারীকে দায়ী করার প্রবণতা এখনও অনেক সমাজে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে নারী ও পুরুষ উভয়েরই উর্বরতা-সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।
তাই বয়স বেশি হলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় শুধু নারীর বয়স নয়, পুরুষের বয়স ও প্রজননস্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
সূত্র: ব্রিটিশ ফার্টিলিটি সোসাইটি



