logo

রাজশাহী মেডিকেল পরিচালককে নিয়ে করা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনভিপ্রেত: এনডিএফ

রাজশাহী মেডিকেল পরিচালককে নিয়ে করা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনভিপ্রেত: এনডিএফ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভেন্টিলেটর সংকটে একাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালককে নিয়ে করা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। মন্ত্রীর বক্তব্যকে অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (৩০ মার্চ) এনডিএফের অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানানো হয়। 

বিবৃতিতে এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে ‘ফাঁসি কাষ্ঠে চড়ানো উচিত’—এমন একটি অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছেন। আমরা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

হাসপাতালের ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা জরুরি উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘রামেক হাসপাতালে সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। যেকোনো রোগীর মৃত্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার বিষয়, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়াও ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা জরুরি। যদি কোনো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা যন্ত্রপাতির অভাব থাকে, তবে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।’

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য চিকিৎসক সমাজে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে জানিয়ে তারা বলেন, ‘স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের নিজ উদ্যোগে এনআইসিইউ সেবা পরিচালনা করে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখা, বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত ছাড়াই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে ‘চরম শাস্তি প্রদানের’ যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, এতে চিকিৎসক সমাজে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে।’

এ সময় এনডিএফ নেতারা প্রাণহানির ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতালের আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা দ্রুত উন্নত করা, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান। 

দোষারোপের চেয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর সমাধান করা সবচেয়ে জরুরি বলেও মন্তব্য করেন চিকিৎসক নেতারা।