রাতের খাবারের সঙ্গে যেসব পানীয় খেলে হতে পারে দুই সমস্যা

রাতের খাবার শুধু কী খাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। খাবারের সঙ্গে কী পান করছেন, সেটিও আপনার হজম, ঘুম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবারের সময় বা ঘুমানোর আগে কিছু ধরনের পানীয় পান করলে অ্যাসিডিটি, বদহজম, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে। তাই রাতের খাবারের সঙ্গে সঠিক পানীয় বেছে নেওয়াও জরুরি।
কোমল পানীয়
কোমল পানীয়ে সাধারণত প্রচুর চিনি থাকে। এগুলো রাতের খাবারের সঙ্গে পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং পরে আবার হঠাৎ কমে যেতে পারে। এতে ঘুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত কোমল পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
কফি
অনেকেরই রাতের খাবারের পর কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।
ফলে সহজে ঘুম না আসা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়িয়ে কিছু মানুষের অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালার সমস্যাও বাড়াতে পারে।
এনার্জি ড্রিংক
এনার্জি ড্রিংকে সাধারণত উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন ও চিনি থাকে।
রাতের খাবারের সঙ্গে বা ঘুমানোর আগে এগুলো পান করলে স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ঘুমাতে দেরি হওয়া, অস্থিরতা এবং হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালকোহল
অনেকের ধারণা, অ্যালকোহল দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করে।
অ্যালকোহল রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত মিষ্টি ফলের জুস
প্যাকেটজাত বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো ফলের জুসেও প্রচুর চিনি থাকতে পারে।
রাতের খাবারের সঙ্গে এগুলো নিয়মিত পান করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের পাশাপাশি রক্তে শর্করার ওঠানামা হতে পারে। তাই সম্পূর্ণ ফল খাওয়াই তুলনামূলক ভালো বিকল্প।
রাতের খাবারের সঙ্গে কী পান করা ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে ভালো পানীয় হলো সাধারণ পানি।
দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন। রাতের খাবারের সময় অতিরিক্ত পানি একসঙ্গে পান করার পরিবর্তে সারাদিনে ভাগ করে পানি পান করাই ভালো। প্রয়োজনে চিনি ছাড়া সাধারণ পানি বা হালকা গরম পানি পান করা যেতে পারে।
ভালো ঘুম ও হজমের জন্য আরও কিছু পরামর্শ
- ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।
- রাতে অতিরিক্ত তেল, মসলা ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।
- খাবার খেয়েই শুয়ে পড়বেন না।
- রাতের খাবার পরিমিত পরিমাণে খান।
- রাতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সীমিত রাখুন।
রাতের খাবারের সঙ্গে সঠিক পানীয় নির্বাচন করলে শুধু হজমই ভালো থাকে না, ঘুমের মানও উন্নত হতে পারে। কোমল পানীয়, কফি, এনার্জি ড্রিংক, অ্যালকোহল এবং অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। এর পরিবর্তে সাধারণ পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)

