Advertisement

প্রোস্টেট ক্যানসারের যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
প্রোস্টেট ক্যানসারের যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
ছবি : সংগৃহীত

প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসারগুলোর একটি। তবে এই রোগের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে শরীরে নীরবে রোগটি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই শুধু লক্ষণের জন্য অপেক্ষা না করে বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। আর যদি প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রোস্টেট কী?

প্রোস্টেট হলো পুরুষদের প্রজননতন্ত্রের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে এবং মূত্রনালিকে ঘিরে রাখে। এটি বীর্যের একটি অংশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রন্থিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া, প্রদাহ এবং প্রোস্টেট ক্যানসার।

প্রাথমিক পর্যায়ে কেন লক্ষণ নাও থাকতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টেজ ১ বা একেবারে শুরুর প্রোস্টেট ক্যানসারে অধিকাংশ রোগীরই কোনো উপসর্গ থাকে না। অনেক সময় ক্যানসার কিছুটা বড় হওয়ার পর বা মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে লক্ষণ দেখা দেয়।

এ কারণেই নিয়মিত স্ক্রিনিংকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

প্রস্রাবে রক্ত: প্রস্রাব গোলাপি, লাল বা বাদামি দেখালে তা কখনোই স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। একবার হলেও এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রস্রাব করতে সমস্যা হওয়া: যদি প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট হয়, মাঝপথে বারবার বন্ধ হয়ে যায় বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হচ্ছে না বলে মনে হয়, তাহলে তা পরীক্ষা করানো উচিত।

বারবার প্রস্রাবের বেগ: বিশেষ করে রাতে একাধিকবার ঘুম থেকে উঠে প্রস্রাব করতে হলে সেটিও প্রোস্টেটের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যদিও এর আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া: আগের তুলনায় প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া বা দুর্বল ধারা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তলপেট বা শ্রোণি অঞ্চলে ব্যথা: কিছু ক্ষেত্রে তলপেট বা শ্রোণি অঞ্চলে অস্বস্তি, চাপ বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে এটি সাধারণত অপেক্ষাকৃত অগ্রসর পর্যায়ের রোগে বেশি দেখা যায়।

আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

প্রোস্টেট ক্যানসার অগ্রসর হলে নিচের উপসর্গগুলোও দেখা দিতে পারে-

  • বীর্যে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
  • উত্থানজনিত সমস্যা
  • কোমর, নিতম্ব বা হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, বিশেষ করে ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে

এসব লক্ষণ মানেই কি ক্যানসার?

না। প্রস্রাবের এসব সমস্যা প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া বা বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া এবং প্রোস্টেটের সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণেও হতে পারে।

তাই লক্ষণ দেখেই ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

নিচের ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি-

  • ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ
  • পরিবারের বাবা বা ভাইয়ের প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে
  • BRCA1 বা BRCA2 জিনের পরিবর্তন থাকলে
  • স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি

কখন স্ক্রিনিং নিয়ে ভাববেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ঝুঁকির পুরুষদের ৪৫ বছর বয়সের দিকে চিকিৎসকের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

আর যাদের পারিবারিক ইতিহাস বা অন্য ঝুঁকি রয়েছে, তারা ৪০ বছর বয়স থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন। স্ক্রিনিংয়ের জন্য সাধারণত PSA রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা করা হয়।

প্রোস্টেট ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শুরু হয়। তাই বয়স ৫০ বছরের কাছাকাছি বা তার বেশি হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং প্রস্রাবের অভ্যাসে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ ও সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

সূত্র: ক্যানসার ওয়াইজ