logo

মাংস-নির্ভর ডায়েট কি শরীরের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করে

মাংস-নির্ভর ডায়েট কি শরীরের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করে

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক নানা ট্রেন্ড খুবই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর বর্তমানে যেসব ট্রেন্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার মধ্যে একটি হলো ‘কার্নিভোর ডায়েট’। এ ডায়েটে শুধুমাত্র প্রাণিজ খাবার খাওয়া হয় এবং সব ধরনের উদ্ভিজ্জ খাবার বাদ দেওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, এই ডায়েট দ্রুত ওজন কমাতে এবং শরীরের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করে। 

কিন্তু বাস্তবতা কি তাই?

কার্নিভোর ডায়েট মূলত একটি উচ্চ প্রোটিন ও কম কার্বোহাইড্রেটভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস। এতে মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া হলেও শাকসবজি, ফল, শস্য, বাদাম- এ সবই বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে শরীরে কার্বোহাইড্রেট কম প্রবেশ করে, যা সাময়িকভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডায়েট সরাসরি শরীরের ভিসারাল ফ্যাট বা ক্ষতিকর চর্বি কমায় এমন শক্ত কোনো প্রমাণ এখনও নেই। এ ডায়েটে ওজন কমার প্রধান কারণ হলো ক্যালোরি কম খাওয়া এবং বেশি প্রোটিন গ্রহণ, যা মানুষকে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে মোট খাবারের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।

এ ছাড়া কম কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার কারণে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ফ্যাট বার্নিংয়ে সাহায্য করতে পারে। তবে এটিই একমাত্র বা সবচেয়ে কার্যকর উপায়, বিষয়টা এমন না। অন্যান্য সুষম খাদ্যাভ্যাসেও একই ফল পাওয়া সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদে কার্নিভোর ডায়েট অনুসরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে ফাইবারের অভাব দেখা দেয়, যা হজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শরীরে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে।

এ ছাড়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, আমাদের গাট মাইক্রোবায়োম বিভিন্ন ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর করে। একঘেয়ে খাদ্যাভ্যাস এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধরনের কঠোর ডায়েট দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা কঠিন। অনেকেই কিছুদিন পর এটি বন্ধ করে দেন এবং তখন আবার ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা, যেখানে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে বলা যায়, কার্নিভোর ডায়েট স্বল্পমেয়াদে কিছু ফল দিতে পারে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর বা টেকসই সমাধান নয়। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।

সূত্র: এনডিটিভি