Advertisement

সন্তানের জন্য টুথপেস্ট কিনছেন, যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সন্তানের জন্য টুথপেস্ট কিনছেন, যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
শিশুর দাঁতের যত্ন শুরু হওয়া উচিত প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই। ছবি : সংগৃহীত

সন্তানের জন্য টুথপেস্ট কেনার সময় বেশির ভাগ অভিভাবকই স্বাদ, ব্র্যান্ড বা বয়স অনুযায়ী তৈরি কি না, এসব বিষয় খেয়াল করেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় শিশুদের জন্য বাজারজাত কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা শিশুদের ছয় ধরনের টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। যদিও গবেষণাটি সব টুথপেস্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তবু এটি অভিভাবকদের আরও সচেতনভাবে টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নিরাপদ ও মানসম্মত টুথপেস্ট নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়, শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট এবং নির্ধারিত পরিমাণ ব্যবহার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিকভাবে ব্যবহার করা ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট শিশুদের দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শিশু দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে এবং বয়স অনুযায়ী ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শিশুর বয়স অনুযায়ী টুথপেস্টের ফ্লোরাইডের মাত্রা এবং ব্যবহারের পরিমাণ আলাদা হওয়া উচিত।

প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই দাঁত ব্রাশের অভ্যাস

অনেকেই মনে করেন, সব দাঁত ওঠার পর ব্রাশ করানো শুরু করতে হবে। আসলে শিশুর প্রথম দুধ দাঁত ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নরম ব্রাশ ও অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা শুরু করা উচিত। এতে দাঁতে প্লাক জমার ঝুঁকি কমে এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

বয়স অনুযায়ী টুথপেস্ট কী হবে?

৬ মাস থেকে ৩ বছর

এই বয়সে শিশুর জন্য কম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত। টুথপেস্টের পরিমাণ হবে একটি চালের দানার সমান। যেহেতু এ বয়সের শিশুরা টুথপেস্ট গিলে ফেলতে পারে, তাই খুব অল্প পরিমাণ ব্যবহার করাই নিরাপদ।

৩ থেকে ৬ বছর

এই বয়সে প্রায় ৫০০ পিপিএম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিমাণ হবে একটি মটরদানার সমান। এ সময়ও শিশুর ব্রাশ করার সময় বড়দের নজরদারি প্রয়োজন, যাতে সে টুথপেস্ট না গিলে ফেলে।

৬ বছর বা তার বেশি

শিশু যখন টুথপেস্ট থুতু ফেলে দিতে শেখে, তখন ১০০০ থেকে ১৫০০ পিপিএম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দাঁতের এনামেলকে শক্ত রাখতে এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধে কার্যকর।

ফ্লোরাইড কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ফ্লোরাইড দাঁতের বাইরের শক্ত আবরণ বা এনামেলকে মজবুত করে। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। নিয়মিত ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে শিশুদের ক্যাভিটির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

বেশি টুথপেস্ট ব্যবহার করা ঠিক নয়

অনেক অভিভাবক ব্রাশে বেশি টুথপেস্ট লাগিয়ে দেন। এটি ঠিক নয়। অতিরিক্ত টুথপেস্ট গিলে ফেললে দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের এনামেলে দাগ বা ডেন্টাল ফ্লোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণই ব্যবহার করা উচিত।

টুথপেস্ট কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • শিশুর বয়স অনুযায়ী তৈরি টুথপেস্ট কিনুন।
  • প্যাকেটে ফ্লোরাইডের মাত্রা উল্লেখ আছে কি না দেখুন।
  • বিশ্বস্ত ও মানসম্মত ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নিন।
  • খুব বেশি মিষ্টি স্বাদের টুথপেস্ট হলে শিশু গিলে ফেলতে চাইতে পারে, তাই ব্রাশের সময় অবশ্যই নজর রাখুন।
  • প্রতি দিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শিশুর দাঁতের যত্ন শুরু হওয়া উচিত প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই। সঠিক পরিমাণে এবং বয়স অনুযায়ী ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয় অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত ব্রাশ করা, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: কেবিনেট ডেন্টায়ার