হামের লক্ষণ কী, চিকিৎসা করাবেন কীভাবে

হাম একসময় শিশুদের সাধারণ রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ হিসেবে বিশ্বজুড়ে আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। টিকা আবিষ্কারের ফলে অনেক দেশেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো টিকাবিহীন মানুষদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই হামের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
হাম
হাম, যা রুবেলা নামেও পরিচিত, একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগ। এটি মূলত শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কার্যকর ভ্যাকসিন থাকলেও এখনও বিশ্বজুড়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
হামের লক্ষণ
ভাইরাসে সংক্রমণের ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো
- জ্বর
- কাশি
- সর্দি
- গলা ব্যথা বা স্বর ভেঙে যাওয়া
- মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ
- সারা শরীরে ফুসকুড়ি
হামের ফুসকুড়ি সাধারণত মুখ বা মাথা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়।
হামের কারণ
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্যারামিক্সোভাইরাস পরিবারের মরবিলিভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট। ভাইরাসটি প্রথমে শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে, পরে রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
কীভাবে হাম ছড়ায়
হাম খুব সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
- কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়
- সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে
- দূষিত বস্তু বা পৃষ্ঠ স্পর্শ করার মাধ্যমে
সংক্রমিত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার কয়েক দিন আগে থেকেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে এবং ফুসকুড়ি ওঠার পরও কয়েক দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।
রোগ নির্ণয়
চিকিৎসক সাধারণত লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে হাম শনাক্ত করেন।
- ত্বকের ফুসকুড়ি
- মুখের সাদা দাগ
- জ্বর, কাশি ইত্যাদি
প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসা
হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, কারণ এটি ভাইরাসজনিত রোগ। তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
- জ্বর কমানোর ওষুধ
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম
- প্রচুর পানি পান
সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে রোগ সেরে যায়।
সংক্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিলে কিছু ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইমিউনোগ্লোবুলিন দেওয়া হয়।
কারা ঝুঁকিতে বেশি
- যাদের টিকা নেওয়া হয়নি
- ৫ বছরের কম বয়সি শিশু
- ২০ বছরের বেশি বয়সি প্রাপ্তবয়স্ক
- অন্তঃসত্ত্বা নারী
- দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি
- অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ
সম্ভাব্য জটিলতা
হাম অনেক সময় মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন
- নিউমোনিয়া
- এনসেফালাইটিস
- কানের সংক্রমণ
- ডায়রিয়া
- অন্ধত্ব
প্রতিরোধের উপায়
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ।
- প্রথম ডোজ ১২ মাস বয়সে
- দ্বিতীয় ডোজ ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে
এছাড়া নিয়মিত হাত ধোয়া, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ও কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা জরুরি।
হামে আক্রান্ত হলে করণীয়
- সংক্রামক সময় পর্যন্ত ঘরে থাকা
- শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত হাত ধোয়া
- ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক হলেও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকা নেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই রোগ ও এর জটিলতা থেকে সহজেই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : ইয়াশোদা হাসপাতাল